ফাইদুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)

  ৬ ঘণ্টা আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ

গোরস্তান এখন পৌর বর্জ্যের ভাগাড়, বিষাক্ত পরিবেশ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের ঐতিহাসিক পীরডাঙ্গী গোরস্থানটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। কোনো প্রকার আইনি বা ধর্মীয় রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে স্বয়ং পৌরসভার গাড়ি করে প্রতিদিন পুরো শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে গোস্তানের মাঝখানে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে পৌর প্রশাসন বলছেন, ময়লা যেন কবরের উপরে গিয়ে না পড়ে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পীরগঞ্জ পৌর শহরের পীরডাঙ্গী গোরস্তানের মাঝখানে কয়েক মাস ধরে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। শহরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আর্বজনা সংগ্রহ করে পৌরসভার নির্ধারিত ট্রাকে করে নিয়ে এসে সেখানে ফেলা হচ্ছে। যার প্রায় ২শ গজ উত্তরে সরকারি কলেজের ৪তলা ছাত্রাবাস এবং সরকারি কলেজ, পীরডাঙ্গী এসআই সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা ও কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ। দক্ষিণে পীর সিরাজউদ্দীন আউলিয়ার মাজার ও সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ পাকা সড়কেরর সিনেমা হল এলাকা থেকে উত্তরে একটি কাঁচা রাস্তা গোরস্তান চিড়ে ময়লার ভাগাড়টির পাশ দিয়ে সরকারি কলেজ এবং মাদরাসায় গিয়ে উঠেছে। এ কাঁচা রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ চলাচল করে। তাদের নাকে কাপড় দিয়ে অথবা চেপে ধরে ভাগাড় এলাকা পার হতে হয়। ভাগাড়টি দুর্গন্ধে আশপাশে যাওয়া যায় না। তাছাড়া ময়লার ভাগাড়টির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হতে হয় কবর জিয়ারত বা লাশ দাফনের জন্য গোরস্তানে আসা মুসল্লিসাধারণ এবং কবরবাসীর আত্মীয়স্বজনদের। বিশেষ করে গত কোরবানির পশুর বর্জ্যও এ ভাগাড়ে ফেলা হয়েছে। এতে পরিবেশ আরো খারাপ হয়েছে।

জনগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গায় এমন ভাগাড় একদিকে যেমন পচা দুর্গন্ধ ও রোগ-বালাই ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে চরমভাবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরমভাবে আঘাত হানছে।

কবরস্থানটির এমন বেহাল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সিপিবির উপজেলা সভাপতি প্রভাত সমীর অভিযোগ করেন, গোরস্তানের ভিতরে ভাগাড় এটা কখনো কল্পনা করা যায় না। আমার পূর্ব পূরুষের কবর রয়েছে সেখানে। দুর্গন্ধের কারণে শান্তিতে আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করতে পারি না। বিষয়টি পৌর প্রশাসককে জানিয়েছি। কাজ হয়নি। গোরস্তানের পবিত্রা রক্ষার করার দায়িত্ব পৌরসভার আর পৌরসভাই সেখানে আবর্জনা ফেলছে। যাবো কোথায়?

সুমি নামে সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, শহরের যানজট এড়িয়ে গোরস্তানের ভিতর দিয়ে কলেজে যাওয়ার শটকাট কাঁচা রাস্তার পাশে ভাগাড়। দুর্গদ্ধে যাওয়া যায় না। দুর্গন্ধের শিকার ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীও।

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা আবু সালেহ সিহাব জানান, আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে এখন গোরস্তানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কিংবা স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে আসাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মৃত মানুষের প্রতি এমন চরম অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অ্যাডভোকেট আবু সায়েম জানান, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে যেকোনো ধর্মীয় স্থান বা কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট করা, সেখানে অনাধিকার প্রবেশ বা ক্ষতিসাধন করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া দেশের প্রচলিত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ীও উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলা নিষিদ্ধ। এখানে পৌরসভা নিজেই কীভাবে আইন লঙ্ঘন করে দিনের পর দিন গোরস্তানে বর্জ্য ফেলছে? বোধগম্য নয়।

কবরস্থানে ময়লা ফেলা বিষয়ে পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার জানান, ‘আমি এ উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই ওই স্থানটিতে পৌরসভার আবর্জনা ফেলা হচ্ছিল। তবে বর্তমানে কোনো আবর্জনা যেন কোনোভাবেই কবরের ওপর গিয়ে না পড়ে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে করার জন্য বর্তমান সরকার একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে একটি চাইনিজ প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও জেলা পরিদর্শনে আসবেন। তারা এলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হবে এবং তখন এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়