চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

  ১৪ জুন, ২০২২

টাকা ছাড়া মেলে না ওয়ারিশ সনদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চেয়ারম্যান-সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯-এর অস্পষ্টতায় একজন নাগরিক কত টাকা দিয়ে সেবা পাবেন, তা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নাগরিক সনদ, চারিত্রিক সনদ, জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদ পেতে গুণতে হয় ৩০০ থেকে স্থানভেদে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধেও রয়েছে এমন অভিযোগ।

সম্প্রতি সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ওয়ারিশ সনদে ৩০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দলিল লেখক কামরুজ্জামান তার দুই আত্মীয়ের জন্য ওয়ারিশ সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন। নিয়মমাফিক আবেদন করেও সনদপত্র নিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাকে। দুটি ওয়ারিশ সনদের জন্য তার কাছে ৬০০ টাকা চাওয়া হয়।

কামরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ করলে ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ও ইউপি সচিব আনোয়ার হোসেন তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পাঁচ দপ্তরে অভিযোগ করেন। সরকার বিনামূল্যে ওয়ারিশ সনদ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো প্রত্যাহার না করায় প্রতিনিয়ত আমাকে প্রাণনাশকের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ওই ইনিয়নের নরেন্দ্রপুর এলাকার রাজাপাড়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমান ফটিক। তিনি জানান, জমি খারিজের জন্য তার দাদা, দাদি আর বাবার ওয়ারিশ সনদপত্র তুলেছেন ৯০০ টাকার বিনিময়ে। একটি সার্টিফিকেটে ৩০০ টাকা করে ৯০০ টাকা দিতে হয়েছে সচিব আনোয়ার হোসেনের হাতে। তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে রশিদ চাইতে গেলে আমাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়।

নরেন্দ্রপুর এলাকার সুজনপাড়ার আরেক বাসিন্দা রবিউল। তার শ্বশুর একজন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনিও ৩০০ টাকা দিয়ে পেয়েছেন তার শ্বশুরের ওয়ারিশ সনদ। রবিউল বলেন, মে মাসের শেষের দিকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে আমার শ্বশুরের ওয়ারিশ সনদ নিতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার শুধু জন্ম নিবন্ধনের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ৫০ টাকা থেকে ২০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। আর অন্য সব সনদের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার কথা নয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম বলেন, কামরুজ্জামান আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে তা সঠিক নয়। ওয়ারিশ সনদের জন্য কারও কাছে টাকা নেয়া হয় না।

সদর ইউএনও ইফফাত জাহান বলেন, ওয়ারিশ সনদপত্র নিতে কোন টাকা লাগে না। সব ইউনিয়ন পরিষদ বিনামূল্যে এ সনদ দিয়ে থাকে। শাহজাহানপুর ইউনিয়নে ওয়ারিশ সনদ তুলতে গিয়ে একজন হেনস্তার শিকার হয়েছে, এমন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযাগ প্রমাণ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, নীতিমালার বাইরে নাগরিক সেবা প্রদানে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন সনদসহ নাগরিক সেবা পেতে টাকা নেয়ার অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়