মেহেরপুর প্রতিনিধি

  ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অর্ধশত গ্রামবাসীর ভরসা সাঁকোয়

নদীর ওপর সেতু না থাকায় বিভক্তি করে রেখেছে মেহেরপুর পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত অর্ধশত গ্রামের মানুষকে। বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা সাঁকো স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত করতে যেমন সমস্যা, তেমনি নদীর ওপারে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয় স্থানীয় কৃষকদের।

মেহেরপুরের গাংনীর গাড়াবাড়িয়া-হিতিমপাড়া ভৈরব নদে ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি। গাড়াবাড়িয়া থেকে হিতিমপাড়া খেয়াঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণ তাদের প্রাণের দাবি। আধুনিকতার ছোঁয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ।

মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলসহ গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদ। বিভিন্ন সরকারের আমলে বিভিন্ন সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও প্রাচীনকাল থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত এই পারের গাড়াবাড়িয়া এবং ওপারের হিতিমপাড়া ঘাটে ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। কয়েক বছর আগে ভৈরব পুনঃখনন হওয়ায় বড় প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে একটি ব্রিজের ।

এলাকাবাসী জানান, গাড়াবাড়িয়া-হিতিমপাড়া ভৈরব নদের ওপর দিয়ে নৌকা ও বাঁশের সাঁকোই পারাপার হতে হয় অন্তত ২০ গ্রামের মানুষকে। হিতিমপাড়া, শোলমারি, শুভরাজপুর, কুতুবপুর, রামদাসপুরসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে প্রতিনিয়িত মেহেরপুর জেলা শহর ও গাংনী উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়।

এছাড়া এপারের গাড়াবাড়িয়া, কালিগাংনী, ধলা, নওপাড়া, ভিটাড়াপাড়া, কুরবাড়িয়া এলাকার মানুষের নদীর ওপারে কৃষিজমি থাকায় আবাদ করতে যেতে হয়। কৃষিজমির উৎপাদিত ফসল ঘরে আনতে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। বাঁশের তৈরি সাঁকো কিংবা নৌকায় বহন করা কৃষিপণ্যে খরচ হয় দ্বিগুণ। ফলে কম দামে স্থানীয় বা বহিরাগত ফড়িয়াদের মাধ্যমে বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষকরা।

রামদাসপুর গ্রামের ইউসুব আলী জানান, নদের ওপারের জমি সবজি আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। অনেক দামি সবজি ফসল উৎপাদন হয় কিন্তু পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিয়ে নৌকা পারাপারে প্রবল স্রোতের মুখোমুখি হতে হয় মাঝিদের। নৌকায় পার হতে ভয়ে বুক দুরু দুরু করে বলে জানায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র পলাশ মাহমুদ।

গাড়াবাড়িয়ার প্রবীণ শিক্ষক জোয়াদ আলী জানান, শুকনা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো-আর বর্ষাকালে নৌকা হচ্ছে দুই পাড়ের মানুষের ভরসা। ছাত্রছাত্রীরা বর্ষায় স্কুলে আসতে ভয় পায়। সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের আবেদন করেও লাভ হয়নি। বর্তমানে খেয়াঘাটটি ইজারার মাধ্যমে চলছে। তাই নৌকার মাঝি বা সাঁকো নির্মাণকারীকে দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা বলেন, নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণে যোগোযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।

মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন- গাড়াবাড়িয়া-ভৈরব নদের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ অতি জরুরি বলে স্বীকার করে জানান, তিনি ওই স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগেও আলোচনা করেছেন। ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্পও নিয়েছে প্রকৌশল বিভাগ।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close