পাথরঘাটা মৎসবন্দর

মৌসুম শেষ, তবু জালে নেই ইলিশ

চলতি মৌসুমে ৪৯৪ দশমিক ২২৫ টন ইলিশ উৎপাদন হয়, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

ইমরান হোসাইন, (পাথরঘাটা) বরগুনা

মৌসুমের শুরুতে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগর ও তার মোহনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় অবসরই কেটেছিল জেলেদের। নিষেধাজ্ঞার পর কয়েক দিন গভীর সমুদ্রে ইলিশের দেখা মিললেও গত ১০ দিন ধরে সমুদ্রে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়া থাকায় ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না জেলেরা।

পাথরঘাটা মৎস্য করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাথরঘাটা বরে ৯৬০ দশমিক ৮৪৩ টন ইলিশের উৎপাদন হয়। এতে ৭২ লাখ ৯১ হাজার ৫২৬ টাকা রাজস্ব পায় সরকার। অন্যদিকে ২০২০ সালের ২৪ জুলাই থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৯৪ দশমিক ২২৫ টন ইলিশের উৎপাদন হয়। রাজস্ব আদায় হয় ৩১ লাখ ৬৯ হাজার ৪০ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।

প্রতিদিন জেলেরা মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে গিয়ে ঘাটে ফিরছে দুই-একটি ইলিশ নিয়ে। কেউবা আবার ফিরছে শূন্য হাতে। আশানুরূপ ইলিশ ধরা না পড়ায় অভাব-অনটনে ঋণ করে চলছে জেলেদের সংসার। এনজিওর লোন আর মহাজনের দাদনের ভাবনাই যেন জেলেদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম হতাশা। তাছাড়া বিনিয়োগ করে এখন লোকসান গুনছে আড়তদার ও দাদন ব্যবসায়ীসহ এর সঙ্গে জড়িতরা।

অন্যদিকে জেলেদের লোন ও দাদন দিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন এনজিও এবং ব্যবসায়ীরা। মাছ ধরা না পড়ায় জেলেরা ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। জেলেরা বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ট্রলার, নৌকা ও জাল কিনে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু সারা দিন জাল ফেলেও মাছ না পাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। হতাশায় এখন অনেক জেলেই নদীতে যাচ্ছেন না। অন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন জেলেরা। বর্তমানে জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

দেশের বৃহত্তম মৎস্য বন্দর বরগুনার পাথরঘাটায় দেখা যায়, ঘাটে নোঙর করে আছে জেলেদের শতাধিক ট্রলার। আড়তে অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। দুই-এক ঝুড়ি মাছ ঘাটে আনা হলেও নেই হাঁকডাক। কারণ এ সময়ে যে পরিমাণ মাছ অবতরণ কেন্দ্রে আসার কথা তার তিন ভাগের এক ভাগও ইলিশ কেনাবেচা নেই।

মৎস্য বন্দর ঘুরে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমুদ্রে ইলিশ ধরা না পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। দিন-রাত জাল ফেলে যে কয়টি মাছ পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে ট্রলারের তেল খরচও হয় না। অনেকে এনজিও ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ইলিশ বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু ইলিশ ধরা না পড়ায় দেনাও শোধ করতে পারছেন না। ঋণের টাকা শোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে।

জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মস্তফা চৌধুরী বলেন, ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে কয়েক দিন বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়লেও এখন সাগরে ইলিশ মিলছে না। কয়েকদিন পর পর অবহাওয়া খারাপ হওয়ায় জেলেরা গভীর সমুদ্রেও যেতে পারছে না।

পাথরঘাটা মৎস্য করপোরেশনের মার্কেটিং অফিসার আহম্মদ উল্লাহ বলেন, এ বছর ইলিশের উৎপাদন গত বছরের থেকে অনেক কম। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না। যে কারণে মনে হয় তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না।

 

 

"