নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৫ জুলাই, ২০২৬

দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর

* শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফেরার অনুরোধ * প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা, ভুল প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর

জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার মধ্যে গতকাল জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দেন, এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ভুল প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীরা পাবেন পূর্ণ নম্বর পাবেন। যেসব কেন্দ্রে সমস্যা হয়েছে, সেসব কেন্দ্রে প্রয়োজনে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে। এছাড়া যারা পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাদের পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফেরার অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও গত সোমবার পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছিলেন, আবহাওয়া ভালো থাকবে। তাই পরীক্ষা বহাল রাখা হয়েছিল। পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে বলব, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক। আমরাই উদ্বিগ্ন তাদের চেয়ে বেশি, কীভাবে পরীক্ষা সঠিকভাবে নেব। কীভাবে এ দুর্যোগ মোকাবিলা করব। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি, যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিধান আমাদের রয়েছে। বর্ষার মধ্যে সারা দেশে এখন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলছে। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও অন্যসব বোর্ডের পরীক্ষা ঘোষিত সময়সূচি ধরে চলছে। এর মধ্যে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থীরা। সেদিন বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান (প্রথম পত্র), মানবিক বিভাগের যুক্তিবিদ্যা (প্রথম পত্র) এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞান (প্রথম পত্র) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে দুটি ভুল ছিল বলে শিক্ষার্থীরা জানান।

দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ায় গতকালই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভেতর ক্ষোভ দেখা দেয়। গতকাল সকালে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা সড়কে বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়। এ পরিস্থিতিতে বিকেলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ একটি সম্পূরক প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। কোনো কেন্দ্রে পানি উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার সেই কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি ছাড়া অন্যান্য জায়গায় যে পানি উঠেছে, তা তেমন বেশি ছিল না, গুটিকয়েক কেন্দ্র সঙ্গে সঙ্গে পাল্টানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যে সুবিধা দেওয়ার, তা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছিলেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এরপরও যেখানে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য কী করার আছে, তা তুলে ধরে এহছানুল হক বলেন, ‘যেসব ক্ষেত্রে এখনো মনে করি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের শুধরিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য বিরাট কাজ নয়। কারণ আমরা অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ করেছি। আমাদের প্রশ্ন সেট রয়েছে। আমরা আবারও পরীক্ষা নেব। আবারও পর্যালোচনা করছি, যদি কোথাও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর পরীক্ষা দিতে না পারে, সে জরিপ আমাদের কাছে আসার পর প্রয়োজনে আমরা পুনরায় পরীক্ষা নিতে পারি। আমরা চট্টগ্রাম বোর্ডে এ ব্যবস্থা করেছি। সে অবস্থান আমাদের রয়েছে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়