ক্রীড়া ডেস্ক

  ২ ঘণ্টা আগে

বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬

১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন

প্রতিবেশী দুই দেশের লড়াই। ফুটবলে যাদের আছে পুরোনো দ্বৈরথ। সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের সাফল্যের কারণে আরো তীব্র হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝ। সেই ধারাবাহিকতা এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও ধরে রাখল স্পেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনের গোছালো ফুটবলের সঙ্গে পেরে উঠল না গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্স। গত মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। দুই অর্ধেই একটি করে গোল দিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে ২২ মিনিটের মাথায় মিকেল ওয়ারজাবালের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৫৮ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করেন পেদ্রি পোরো।

২০১০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। সেটিই ছিল প্রতিযোগিতার ইতিহাসে তাদের প্রথম ফাইনালে ওঠা। ১৬ বছর পর আবার বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে লা রোজারা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এদিন সবদিক থেকে পিছিয়ে ছিল স্পেন। প্রথমার্ধে ফ্রান্স একটি শটও অন টার্গেটে রাখতে পারেনি। বল পজিশনেও ছিল পিছিয়ে। দুদল মোট সমান ১০টি করে শট নেয়, যার মধ্যে স্পেনের দুটি অন টার্গেট শটের বিপরীতে ফ্রান্স নেয় তিনটি। বল পজিশনেও প্রায় সমান সমান। কিন্তু এ সমীকরণ ম্যাচের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। শেষ দিকে নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট এবং যোগ করা সময়ের ৭ মিনিট বলের দখল ছিল ফ্রান্সের কাছে। ম্যাচে অবিশ্বাস্য ছিল স্পেন গোলকিপার উনাই সিমনের পারফর?ম্যান্স। বেশ কয়েকবার কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান ডেম্বেলেরা স্পেনের রক্ষণভেদ করে বেরিয়ে গেলেও সিমন এগিয়ে এসে প্রতিরোধ করেন। এদিন তার মুভমেন্ট ছিল অসাধারণ। ম্যাচসেরাও হয়েছেন ২৯ বছর বয়সি গোলকিপার।

এ ম্যাচের আগে লামিন ইয়ামাল বলেছিলেন তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভয় যদি কেউ পায় সেটি ফ্রান্স পাবে। ২০২৫ সালে ইউয়েফা নেশন্স লিগে ফ্রান্সকে হারায় স্পেন। আগের বছর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্প্যানিয়ার্ডরা। এবার ফরাসিদের হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল লা রোজারা। শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে স্পেন। অন্যদিকে ফ্রান্স অপেক্ষায় ছিল দ্রুত প্রতি-আক্রমণের। তৃতীয় মিনিটেই ইয়ামালকে শক্ত ট্যাকলে থামান আদ্রিয়েন রাবিও। পরের আক্রমণে কিলিয়ান এমবাপ্পেও ফাবিয়ান রুইসকে কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ম্যাচের ৯ মিনিটে ডি-বক্সের একদম সামনে ফ্রিকিক পায় স্পেন। দানি ওলমোর পায়ে পারা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন রাবিও। ভালো জায়গায় ফ্রিকিক পেলেও সুবিধা আদায় করে নিতে পারেনি স্পেন।

২০ মিনিটেই পেনাল্টি পায় স্পেন। লম্বা ক্রস ডি-বক্সে হেডে মাটিতে নামাতে চেয়েছিলেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস দিগনে। সেখানে দৌড়ে আসেন লামিন ইয়ামাল। সেসময় বলে লাথি দিতে গিয়ে লামিনকে মেরে বসেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পটকিকে দলকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপের কোনো এক আসরে এ গোলের মাধ্যমে ওয়ারজাবাল ছুঁয়ে ফেলেন ডেভিড ভিয়া ও এমিলিও বুতরাগুয়েনোর ৫ গোলকে। স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপ জেতা আসরে ৫ গোল করেছিলেন ভিয়া। ভিয়ার আগে ১৯৮৬ আসরে ৫ গোল করেন বুতরাগুয়েনো। গোল হজমের পর ফ্রান্সের জন্য আসে আরেক দুঃসংবাদ। ২৮ মিনিটে পিঠে অস্বস্তি অনুভব করে মাঠে বসে পড়েন উইলিয়াম সালিবা। চিকিৎসার পরও খেলতে না পারায় ৩০ মিনিটে তার জায়গায় নামেন ম্যাকসেন্স লাক্রোয়া।

৩১ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থামাতে গিয়ে মাইকেল অলিসেকে পরপর দুটি ফাউল করেন মার্ক কুকুরেয়া। এজন্য হলুদ কার্ড দেখেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। তবে দেম্বেলের নেওয়া ফ্রিকিক সহজেই তালুবন্দি করেন উনাই সিমন। ৩৮ মিনিটে ডি-বক্সের সামনে মাইক মাইনারের ভুলে বল পান ওলমো। ব্যাকহিল করে ইয়ামালকে ডি-বক্সের ভেতরে বল দিলে তিনি ফাবিয়ানের দিকে বাড়িয়ে দেন। কিন্তু উপামেকানো শেষ মুহূর্তে ট্যাকল করে এ মিডফিল্ডারকে গোলবঞ্চিত রাখেন। সেটি ছিল মাইনারের জন্য বিরাট স্বস্তির খবর। ৩৭ মিনিটে দূরপাল্লা থেকে ভাগ্য পরীক্ষা করেন পেদ্রো পোরো। তবে তার শট অনেক ওপর দিয়ে উড়ে যায়। ৩ মিনিট পর রাবিওর থ্রু বল ধরে এমবাপ্পেকে স্পেনের সব ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে গেলেও গোলকিপার উনাই সিমন দ্রুত বেরিয়ে এসে বলটি ক্লিয়ার করে দেন। এ সময় পর্যন্ত দুর্দান্ত গোলকিপিং করেন সিমন। পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় অন টার্গেটে একটি শটও নিতে না পারা ফ্রান্স।

বিরতির পরও স্পেনের দুর্দান্ত পাসিং ফুটবলের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে ফ্রান্স। ৫৮ মিনিটে দলের লিড দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে ডান পাশ ধরে ডি-বক্সে ঢুকেই গোলকিপারকে কাটিয়ে জাল কাঁপান পেদ্রি। ৩ মিনিট পর একক প্রচেষ্টায় জাল খুঁজে নেন ইয়ামালও, কিন্তু অফসাইডের কারণে স্পেনের লিড ৩-০ হয়নি। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ডি-বক্সের সামনে থেকে এমবাপ্পের নেওয়া কোনাকুনি শট স্পেনের এক ডিফেন্ডারের শরীরের লেগে পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩ মিনিট পর একাধিক পরিবর্তন করেন ফ্রান্স কোচ। কিন্তু তাতে ম্যাচের গতি বদলায়নি। ৭৯ মিনিটে সুযোগ তৈরি করে স্পেন। বায়েনার ক্রসে ডি-বক্সে হেড নিয়েছিলেন ফেরান তোরেস। কিন্তু বল বেরিয়ে যায় পোস্টঘেঁষে। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে স্প্যানিশ রক্ষণে ঝড় তোলে ফ্রান্স। তবে গোলকিপার উনাই সিমন ও ডিফেন্ডার কুকুরেয়ার বীরত্বে ফরাসিদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

৮২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে কিছুটা ভুল করে বসেন সিমন, তবে দ্রুতই পজিশনে ফিরে এসে দেজিরে দুয়ের শট ডি-বক্সের ভেতর থেকে ব্লক করে দলকে বাঁচান তিনি। পরের মিনিটেই থিও হার্নান্দেজের আরেকটি দারুণ শট রুখে দেন এ গোলকিপার। ৮৯ মিনিটে এমবাপ্পের একটি শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে ফ্রান্সের ম্যাচে ফেরার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরের মিনিটে ফরাসি অধিনায়কের আরেকটি প্রচেষ্টা নিজেদের পেনাল্টি ডি-বক্স থেকে ক্লিয়ার করে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন কুকুরেয়া। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির। ফরাসিদের দম্ভ চূর্ণ করে ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা হয় স্পেন সমর্থকরা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়