আবদুর রহমান রাসেল, রংপুর

  ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

বেগম রোকেয়া দিবস আজ

বাঙালির আধুনিক ইতিহাসে নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তার জন্ম এবং ১৯৩২ সালের একই তারিখে মৃত্যু হওয়ায় দিনটি সরকারিভাবে ‘বেগম রোকেয়া দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভামণ্ডনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হলেও দিবস শেষে আবারও অবহেলায় পড়ে থাকে তার স্মৃতি কেন্দ্র। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পায়রাবন্দের বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র আজও উন্নয়ন বঞ্চিত। দখল, দূষণ ও অযত্নে ধীরে ধীরে বিলীন হতে বসেছে তার পৈতৃক ভিটা। স্থানীয়দের অভিযোগ- প্রতি বছরই নানা আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়ন খুবই সীমিত। এদিকে ১৪৫তম জন্ম ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পায়রাবন্দ সাজানো হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। জেলা প্রশাসন তিন দিনব্যাপী মেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি রক্ষা আন্দোলনের নেতারা জানান, পায়রাবন্দের বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজটি দীর্ঘদিন ধরেই হযবরল অবস্থায় আছে। তার নামে নির্মিত ১০ শয্যা হাসপাতালেও নেই চিকিৎসক, ওষুধ বা কার্যক্রম। স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, ‘এ বছর স্থানীয়দের প্রত্যাশা- সরকার রোকেয়াকে ঘিরে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে।’

স্মৃতি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবিদ করিম মুন্না জানান, ‘নারী জাগরণের অগ্রদূতের জীবন, কর্ম ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণাকে কেন্দ্র করে স্মৃতি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শিক্ষিত মা-ই পারে সুস্থ জাতি গঠন করতে রোকেয়ার সেই স্বপ্নই বাস্তবায়ন আমাদের লক্ষ্য।’ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিরাজাম মুনিরা বলেন, ‘শিক্ষা, নারীমুক্তি ও চিন্তার স্বাধীনতার যে আদর্শ রোকেয়া দেখিয়েছেন, তার প্রাসঙ্গিকতা কখনো হারাবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. শওকত আলী জানান, ‘স্মৃতি কেন্দ্রের লাইব্রেরি ও অডিটোরিয়াম জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই এটিকে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার উপযোগী করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’ স্থানীয়দের দাবি, রোকেয়ার ব্যবহৃত সব স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করে পায়রাবন্দকে নারী জাগরণের ইতিহাসের দর্শনীয় স্থানে রূপান্তর করা হোক। তাদের কথায়, ‘যে নারী অন্ধকার ছিঁড়ে আলো দেখিয়েছেন, তার পৈতৃক ভিটাই আজ পড়ে আছে অযত্নে- এ দৃশ্য আমাদের কষ্ট দেয়।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়