চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে ৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেয়া স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে ৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। নষ্ট ডিম ও গন্ধযুক্ত পাউরুটি খাওয়ার পর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময় সহপাঠীদের অসুস্থ হতে দেখে আতঙ্কে আরও ৫-৬ শিক্ষার্থী ‘প্যানিক অ্যাটাক’র শিকার হয়।
বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৪২ নম্বর সালিম ডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলো- মহারাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব টিকরা গ্রামের মো. আকতারুলের মেয়ে মোসা. রাফিয়া (১২), মিনটোলা গ্রামের সিকিম আলীর মেয়ে নুসরাত জাহান (১২) ও সেলিমের মেয়ে সুমাইয়া (১১), হাজিপাড়ার শহিদুল ইসলামের মেয়ে সিদরাতুল নেশা (১২) ও সেমাজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল হান্নান (১১) এবং টিকরা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে তাহমিদা (১১)। তারা সবাই বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল চিকিৎসাধীন।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গাক’ এই খাবার সরবরাহ করে। তবে সরবরাহকৃত ডিমগুলো ছিল নষ্ট ও ঘোলা এবং পাউরুটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীরা সেই খাবার খাওয়ার পরপরই একে একে পেটে ব্যথা, বমি ও মাথা ঘোরায় আক্রান্ত হয়ে পড়তে থাকে। একই সময়ে সহপাঠীদের এমন অবস্থা দেখে ভয়ে ও আতঙ্কে আরও ৫-৬ শিক্ষার্থী প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়।
পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষার্থীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসা ৭ শিক্ষার্থীকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউই সিরিয়াস না। খাবার খাওয়ার পরে পেটব্যথা হয়েছিল, তার ওপর আবার আবহাওয়া খারাপ। বর্তমানে তাদের স্যালাইন দিয়ে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে ৭-৮ জন অসুস্থ হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় আলামত ও নমুনা সংগ্রহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণে রাখছি।
এর আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি স্কুলে একই এনজিওর সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। সে ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাদী হয়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলাও দায়ের করেছিলেন। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।









































