জবি প্রতিনিধি
চার শিক্ষাবর্ষের ১০৪ কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান
প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-২০১৭ থেকে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের চারটি ব্যাচের স্নাতক পর্যায়ের ১০৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন অনুষদের মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের ৭টি অনুষদের ২৪টি বিভাগের ২৪ জন, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ৭টি অনুষদের ২৫টি বিভাগের ২৫ জন, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ৭টি অনুষদের ২৮টি বিভাগের ২৮ জন এবং ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ৫টি অনুষদের ২৭টি বিভাগের ২৭ জন শিক্ষার্থী এ সম্মাননায় ভূষিত হন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন নিজ নিজ অনুষদের অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। কলা অনুষদের ২১ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. আরজুমন্দ আরা বানু, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ১৬ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলী নূর, বিজ্ঞান অনুষদের ১৫ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৭ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. সানজিদা ফরহানা, আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ২৯ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম এবং চারুকলা অনুষদের ৩ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান।
মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২১ বছর পর প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করতে এ ধরনের স্বীকৃতির গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি এ আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যেকোনো পুরস্কার শিক্ষার্থীদের উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করে এবং তাদের দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি করে। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই অর্জন তাদের সারাজীবনের গর্ব ও স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, জীবনের মূল্যবান সময় কখনোই অপচয় করা যাবে না; প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষারও ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী—সকলেই শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি রাখা হয়েছে, যা শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের মাননীয় সাংসদ হামিদুর রহমান হামিদ, এমপি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, আজকের দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা বিস্তার ও জাতীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয় নানা সীমাবদ্ধতা ও অবহেলার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের মেধা, সাফল্য ও অর্জনের মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই স্বীকৃতির মর্যাদা রক্ষা করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা কাজে লাগাতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক বৃত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা দূরীকরণে বর্তমান সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
উপাচার্য শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণে সরকারের সহায়তা প্রত্যাশা করে বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকারের মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে পুরস্কার প্রদান কাজের স্পৃহা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে। শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসের উন্নয়নেও সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই এ আয়োজন৷









































