চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ ঘুরে দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সকাল রোদে তখন ঝলমল করছে সুলতানী আমলের পাথুরে স্থাপত্য ‘ছোট সোনামসজিদ’। চারপাশের প্রাচীন দেয়াল আর কারুকার্যের মাঝে হঠাৎ এক ভিন্ন রকম আবহ। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আকস্মিকভাবেই বুধবার সকালে এসে হাজির হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এই সীমান্তবর্তী ঐতিহাসিক অঞ্চলে। প্রটোকলের চাদর পেরিয়ে তিনি যেন এক মুগ্ধ পর্যটক, যিনি মেতে উঠলেন প্রাচীন গৌড় নগরীর সমৃদ্ধ ইতিহাসের খোঁজে।

বুধবার সকালে রাজশাহী থেকে সড়কপথে সরাসরি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সোনামসজিদ স্থলবন্দর এলাকায় পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তবে কর্মব্যস্ত স্থলবন্দরের চেনা কোলাহল ছাপিয়ে তার আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে এই অঞ্চলের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সুলতানী স্থাপত্যের অনন্য কীর্তি ছোট সোনামসজিদসহ আশপাশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ঘুরে দেখার সময় রাষ্ট্রদূতের চোখে-মুখে ছিল স্পষ্ট আনন্দের ছাপ।

কেবল দূর থেকে দেখা নয়, প্রাচীন গৌড়ের সমৃদ্ধ ইতিহাসের গল্প শুনলেন গভীর আগ্রহ নিয়ে, আর স্মারক হিসেবে নিজের ক্যামেরায় বন্দি করলেন একের পর এক ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি। ইতিহাসের পাতা ওল্টানোর পর রাষ্ট্রদূত পা বাড়ান বর্তমানের সীমান্তে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি সরাসরি চলে যান একদম জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি। সেখানে রোদ-বৃষ্টি মাথায় রেখে অতন্দ্র প্রহরায় নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন তিনি। প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের নানা খুঁটিনাটি বিষয়ে বিজিবি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন।

রাষ্ট্রদূতের এই বর্ণিল ও তাৎপর্যপূর্ণ সফরের পুরোটা সময় তার ছায়াসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, ৫৯ বিজিবি মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়