মাতারবাড়ী বন্দরের জমি অধিগ্রহণ শেষের পথে

* জাপানি পরামর্শক নিয়োগ * জেটি নির্মাণের কাজ এগিয়ে * ২০২৫ সালে শেষ করার আশা

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরো

কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজে আরো একধাপ এগিয়েছে সরকার। জমি অধিগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বন্দরটি তৈরি হলে সময় যেমন বাঁচবে তেমনি কমবে খরচ। এদিকে বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জাপানি দুই প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা বন্দর নির্মাণ থেকে শুরু করে সড়ক পথে সংযোগ কাজেও পরামর্শ দেবেন।

সূত্র জানিয়েছে, মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে জাপানের নিপ্পন কোয়ে এবং ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট গ্লোবাল কোম্পানির চুক্তি সই হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়ের পক্ষ থেকে প্রকল্পের যাবতীয় নকশা ব্যয় নির্ধারণ, টেন্ডার ডকুমেন্টস তৈরি এবং অবকাঠামোগত নির্মাণের বিষয়গুলো তদারক করা হবে। পরবর্তী সময়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ থেকে শুরু করে বন্দর চালু করে দেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করবে। বন্দর চালু হওয়ার এক বছর পর্যন্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাপোর্ট দেবে। এজন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটিকে ২৩৪ কোটি টাকা দেওয়া হবে। আর ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট গ্লোবাল কোম্পানি মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (বন্দরসংযোগ সড়ক অংশ) সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কার্যক্রম-সংক্রান্ত পরামর্শ দেবে। এ জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটিকে ৪৬৬ কোটি টাকা দেওয়া হবে।

গত বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ-সংক্রান্ত এই দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

এ সময় মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) কার্যক্রম-সংক্রান্ত প্রকল্প পরিচালক জাফর আলম এবং নিপ্পন কোয়ের প্রতিনিধি নাওকি কুদো প্রকৌশলগত বিষয়ের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (বন্দরসংযোগ সড়ক অংশ) সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের (আরএইচডি) কার্যক্রম-সংক্রান্ত প্রকল্প পরিচালক সাদেকুল ইসলাম এবং ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টের প্রতিনিধি শুনজি ইউশিহারা সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ-সংক্রান্ত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় বন্দর নির্মাণসংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়ন করছে চট্রগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর সংযোগ সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক বিভাগ। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। একনেক থেকে অনুমোদিত সময় অনুযায়ী জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে আমরা টার্গেট করছি ২০২৫ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে।

ফিডার সার্ভিস প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, চীন বা সিঙ্গাপুর থেকে সহজে বড় জাহাজ দিয়ে মাতারবাড়ীতে নিয়ে আসা যাবে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে কলম্বোর যে ফিডার সার্ভিস তা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

ফিডার সার্ভিস চালু করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও পিআইএল শিপিং লাইনের মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহির বলেন, ‘মাতারবাড়ীর সঙ্গে কনটেইনার ফিডার রোড সুফল হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে বাল্ক পণ্য (যেসব পণ্য খোলা আসে) যেমন- পাথর, ক্লিংকার, স্ক্র্যাপ লোহা প্রচুর পরিমাণে আমদানি হয়ে থাকে। এসব পণ্য মাতারবাড়ী থেকে লাইটার জাহাজে (বড় জাহাজ থেকে পণ্য আনা নেওয়ার জন্য ছোট জাহাজ) করে আমদানিকারকরা নিয়ে আসতে পারে। এতে আমদানিকারকদের অনেক সাশ্রয়ও হবে।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মাতারবাড়ী বন্দর বাল্ক পণ্য হিসেবে খুবই উপযোগী হবে। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় দেশি বিদেশি অনেক কোম্পানি বিনিয়োগ করছে। এলপিজি গ্যাস ছাড়াও এলএনজি প্লান্টও গড়ে উঠছে এই এলাকায়। এছাড়া মাতারবাড়ীতে বাল্ক পণ্য বেশি এলে চট্টগ্রাম বন্দরের জিসিবি বার্থের জেটিগুলোকে কনটেইনার পরিবহনের জন্য উঠানামা করানো যাবে।

বঙ্গোপসাগর থেকে মাতারবাড়ীতে নির্মিত কৃত্রিম চ্যানেল (উভয় পাশে মাটি মাঝখান দিয়ে জাহাজ চলাচল করবে) দিয়ে জাহাজ জেটিতে ভিড়তে ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পাড়ি দিতে হবে। ৩৫০ মিটার চওড়া এই চ্যানেলটিতে ১৮ মিটার ড্রাফটের ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ জাহাজগুলো ভিড়তে পারবে এবং জেটি এলাকায় ঘুরতেও পারবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ মিটার ড্রাফটের এবং বে টার্মিনালে ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভেড়াতে জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভর করলেও মাতারবাড়ীতে সেই সমস্যা নেই।

 

 

"