প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১০ অক্টোবর, ২০২১

তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একত্র করতে চান শি

তাইওয়ানের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণ হতেই হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাইওয়ানের সঙ্গে ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে পুনর্মিলনের’ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, একত্র করার ঐতিহাসিক কাজটি সম্পন্ন করা উচিত, তা অবশ্যই করা হবে। চীন বিপ্লবের ১১০তম বার্ষিকীর স্মরণে গতকাল শনিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হলে এমন বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট শি। শির এমন মন্তব্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানিয়েছে, এই দ্বীপটির ভবিষ্যৎ তাইওয়ানের জণগণের হাতে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

চীন-তাইওয়ানের সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার শি জিনপিং বলেন, ‘এক দেশ-দুই ব্যবস্থা’ নীতির অধীনে শান্তিপূর্ণভাবে তাইওয়ানকে একত্র দেখতে চাই। যে ব্যবস্থা হংকংয়েও চালু আছে। তাইওয়ানের স্বাধীনতা চাওয়া একত্রীকরণে এবং জাতীয় পুনরুজ্জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা মনে করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। শি জানান, তিনি চান, তাইওয়ান চীনের সঙ্গে হংকংয়ের মতো ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ এই নীতির আওতায় শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণে রাজি হোক।

চীন থেকে রাজতন্ত্র উৎখাতের ১১০ বছর পূর্তিতে দেওয়া ভাষণে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শিকে তাইওয়ান ইস্যুতে আগের তুলনায় সংযত দেখা গেছে। জুলাইয়ে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তাইওয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো ধরনের চেষ্টা করলে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

এ দিন শি আরো বলেন, ‘যারা নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা করে তাদের প্রচেষ্টা কাজে আসবে না’। তাইওয়ানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবিলায় চীনা জনগণের ‘গৌরবময় ঐতিহ্য’ আছে।

তবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বলেছে, ‘এক দেশে দুই নীতি’ প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে তাইওয়ানের জনমত খুবই স্পষ্ট। এছাড়া বেইজিংকে তাইওয়ান ভূখন্ডে ‘অনুপ্রবেশ, হয়রানি ও ধ্বংসের উত্তেজনাকর পদক্ষেপ’ পরিত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাইওয়ানকে নিজেদের দ্বীপ অঞ্চল বলে দাবি করে আসছে চীন। যদিও তাইওয়ান নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে বলে আসছে। পুনরেকত্রীকরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বল প্রয়োজনে বল প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি বেইজিং।

সম্প্রতি তাইওয়ানের এয়ার ডিফেন্স জোন এলাকায় একাধিকবার চীনের যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করে। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা চললেও পরিস্থিতি এখনো ১৯৯৬ সালের মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সেবার চীন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বিঘ্নিত করার চেষ্টায় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল, সেসময় বেইজিংকে থামাতে ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে।

চীনের সাম্প্রতিক শক্তি প্রদর্শনে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি ‘তাইওয়ান নিয়ে সমঝোতা’ মেনে চলার ব্যাপারে রাজি হয়েছেন। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে যে ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলছে, বাইডেন সম্ভবত সেটিকেই ‘তাইওয়ান নিয়ে সমঝোতা’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ওই ‘এক চীন’ নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি; তবে তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতই তাইপের কাছে অস্ত্র বেচে, আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে তাইওয়ানের পাশে থাকার অঙ্গীকারও আছে তাদের।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close