মো. সবুজ হোসেন, নওগাঁ

  ১১ জুলাই, ২০১৭

ক্ষতিকর মশার কয়েল, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

মানুষের দরকারি জিনিসের একটি হলো মশার কয়েল। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে মশার কয়েলের ব্যবহার ব্যাপক। আর এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। অতি মুনাফার লোভে তারা বিক্রি করছেন অনুমোদনহীন ও ক্ষতিকর মশার কয়েল। নওগাঁর বাজার এ ধরনের মশার কয়েলে এখন সয়লাব। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্থানীয় চিকিৎসকরা বলছেন, নিম্নমানের কয়েল মানুষ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে দূষিত ধোঁয়ায় মানবদেহের শ্বাসকষ্টসহ কিডনি, লিভার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব কয়েলের বিষক্রিয়ায় ক্যানসার, শ্বাসনালির প্রদাহসহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব-এমনকি গর্ভের শিশুর বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাজারগুলোতে নিম্নমানের কয়েলের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নেই। এ কয়েল কোম্পানিগুলো ভুয়া পিএইচপি নম্বর ও বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করে আকর্ষণীয় মোড়কে কয়েল বাজারে ছাড়ছে। বিদ্যমান বালাইনাশক অধ্যাদেশ (পেস্টিসাইড অর্ডিন্যান্স ১৯৭১ ও পেস্টিসাইড রুলস ১৯৮৫) অনুসারে, মশার কয়েল উৎপাদন, বাজারজাত ও সংরক্ষণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অধিদফতরের অনুমোদন পাওয়ার পর পাবলিক হেলথ প্রোডাক্ট (পিএইচপি) নম্বর ও বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়েই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বালাইনাশক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মশার কয়েলে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৩ মাত্রার ‘অ্যাকটিভ ইনটিগ্রেডিয়েন্ট’ ব্যবহার নির্ধারণ করেছে। এ মাত্রা শুধু মশা তাড়াতে কার্যকর, মারতে নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনুমোদনহীন এসব কয়েলে শুধু মশাই নয়, বিভিন্ন পোকামাকড়, তেলাপোকা এমনকি টিকটিকি পর্যন্ত মারা যায়!

শহরের তিব্বত মার্কেট, আল-আমিন মার্কেট, ধর্মতলা রোডসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ‘নাইট রোজ, অতন্ত্রপ্রহরী জাম্বো, অতন্ত্রপ্রহরী মিনি, ফ্যামিলি, ওয়ান টেন, সান পাওয়ার, তুলসিপাতা, সাঁঝের তারা, বস ও রকেটসহ অনুমোদনহী কয়েলে বাজার সয়লাব।’ স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব বলেন, ‘মশা নয় মানুষ মারার কয়েল। স্বল্প দামের কয়েলের ধোঁয়াতে ঘর অন্ধকার হয়ে যায়। যেন দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

শহরের তিব্বত মার্কেটের মেসার্স মাহমুদ হাসান ট্রেডার্সের মালিক মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আমি কয়েকটি কয়েলের ডিলার (ডিস্ট্রিবিউটর)। অনুমোদনহীন দেশীয় কয়েলের কারণে ব্র্যান্ডের কয়েল কম বিক্রি হচ্ছে। আর দিন দিন ব্র্যান্ডের কয়েলের চাহিদাও কমছে।’

প্রহরী কয়েলের বাজারজাতকারক মেসার্স আবদুুল হাই ট্রেডার্সের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষে কয়েলটি বাজারজাত করা হচ্ছে। আমাদের কেমিক্যাল চায়না থেকে আমদানি করা হয়। কয়েলে কোনো ধরনের মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। তবে কতিপয় ব্যবসায়ী সুবিধা না পেয়ে এসব গুজব ছড়াচ্ছেন।’

এটুজেড মশার কয়েলের ডিলার আবদুল মজিদ বলেন, ‘আমাদের কয়েলের রেজিস্ট্রেশন আছে। আমরা ভ্যাট, ট্রাক্স দিয়ে ১ কার্টন (৬০ প্যাকেট) কয়েল উৎপাদন করতে দুই হাজার ২০ টাকা খরচ হয়। যেখানে অনুমোদনহীন মশার কয়েল বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৯২০ টাকা। আমরা তো লোকসান দিয়ে বাজারে কয়েল বিক্রি করতে পারব না। আর তাদের কারণে আমরা প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাজারে টিকতে পারছি না। এ ব্যাপারে বিএসটিআই প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা খানম বলেন, ‘মশার কয়েল এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিটি কয়েল স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। এটি ক্ষতিকর একটি দিক। আর অনুমোদনহীন মশার কয়েল তো বেশি ক্ষতিকর। অতিমাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশক মিশ্রিত কয়েল মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার করলে শ্বাসকষ্ট, লিভার, কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজিত কুমার মল্লিক বলেন, ‘কয়েল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে যে লিকুইড আছে সেটার কোনো সমস্যা নেই। কয়েলের ক্ষেত্রে কীটনাশকের বিষয়টি ঢাকার হেড অফিস দেখেন। তবে বাজারে অনুমোদনহীন নিম্নমানের কয়েল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist