আরিফুল ইসলাম জিমন, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)

  ৪ ঘণ্টা আগে

পৃথিবী ঘুরে দেখার স্বপ্ন কোলবন্দি আয়াতের

জন্মের পর থেকেই শারীরিক জটিলতায় ভুগছে আয়াত বয়স আট হলেও সে যেন দুই বছরের শিশু

পাড়ার শিশুরা বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে ছুটে যায়। কেউ মাঠে খেলায় মেতে ওঠে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডায়। প্রতিদিন ভোর হয় ঠিকই কিন্তু আট বছরের শিশু আয়াতের সকাল শুরু হয় অন্যভাবে-কোনো এক স্বজনের কোলে শুয়ে বা বসে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরশহরের রসুলপুর এলাকার দিনমজুর রাজু মিয়া আর আতিকা খাতুনের ছেলে আয়াত। জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছে সে। বয়স আট হলেও শারীরিক গঠন আর আচরণে যেন দুই বছরের শিশু। হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না, নিজের প্রয়োজনও কাউকে বোঝাতে পারে না। পৃথিবীকে সে দেখে, মানুষকে দেখে, কিন্তু নিজের অনুভূতি প্রকাশের ভাষা তার নেই।

আয়াতের মা আতিকা খাতুন বলেন, যখন অন্য বাচ্চাদের স্কুলে যেতে দেখি, তখন বুকটা ফেটে যায়। আমার ছেলেও তো তাদের মতো হতে পারত। কিন্তু ও শুধু আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। যদি একবার ‘মা’ বলে ডাকত!

বয়সের ভারে ন্যুব্জ নানি সুলতানা বেগম এখনো নাতিকে কোলে নিয়ে চলেন। তিনি বলেন, ছোট থাকতে কোলে নিতে কষ্ট হতো না। এখন ওজন বেড়েছে, হাত-পায়ে ব্যথা হয়। তবু নামিয়ে রাখার সুযোগ নেই। নাতির মুখের দিকে তাকালে সব ভুলে যাই। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই আয়াতকে এমন অবস্থায় দেখছেন। বয়স বাড়ছে, কিন্তু নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে না। পরিবারটি খুব অসহায়। অন্তত একটি হুইলচেয়ার হলে তাদের অনেকটা স্বস্তি মিলত।

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান মেহেদী হাসান জানান, আয়াত জন্মগত ত্রুটির কারণে এমন অবস্থায় আছে। সাধারণত ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়, তবে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এই গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়, আমাদের সমাজেরও। আয়াতের মতো শিশুরা আমাদের চারপাশেই আছে-অসহায়, নীরব, কিন্তু জীবনের আলো দেখতে চায়। একটি হুইলচেয়ার হয়তো আমাদের কাছে ছোট বিষয়, কিন্তু আয়াতের কাছে সেটিই পৃথিবী দেখার জানালা।

স্থানীয় সমাজ বা সংগঠনগুলো চাইলে একটি হুইলচেয়ার দিতে পারে। সামাজিক সংগঠন, এনজিও বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো আয়াতের পাশে দাঁড়াতে পারে। যে কেউ চাইলেও পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য করতে পারে। আট বছরের আয়াত আজও অপেক্ষা করছে- নিজের পায়ে হাঁটার জন্য নয়, অন্তত একটি হুইলচেয়ারে বসে পৃথিবীটাকে দেখার জন্য। হয়তো সেই চেয়ারে বসে আয়াত পৃথিবীটাকে একটু কাছ থেকে দেখতে পারবে। হয়তো মাঠে খেলতে নামা শিশুদের দিকে তাকিয়ে আরেকটু আনন্দ খুঁজে পাবে। আর তার মা অপেক্ষা করছেন- কোনো একদিন হয়তো সমাজের কেউ এগিয়ে আসবে, হয়তো তার সন্তানের জীবনেও একটু স্বস্তির আলো ফুটবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়