গাজীপুর প্রতিনিধি
পোশাক কারখানায় ৭০ শ্রমিক অসুস্থ ছুটি ঘোষণা

শরীরে তাপমাত্র বৃদ্ধি, বমি, মাথাঘোরা ও মানসিক আতঙ্কে গাজীপুরের শ্রীপুরে কমপক্ষে ৭০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনায় কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এক দিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্রমিকরা প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, সকালে কাজ চলাকালে একটি ফ্লোরে হঠাৎ কয়েকজন শ্রমিক বমি, মাথাঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করেন। এরপর একে একে আরো অনেকে একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। কয়েকজন শ্রমিক মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে পুরো কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার শ্রমিক সাথী আক্তার জানান, কিছুদিন আগে একই ফ্লোরে লিজা বেগম নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। এবারও একই ফ্লোরে এমন ঘটনার পর শ্রমিকদের মধ্যে ভয় আরো বেড়ে গেছে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসাইন বলেন, হাসপাতালে ৩৫ থেকে ৪০ জন শ্রমিককে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেকেই বাড়ি ফিরে গেলেও নতুন করে আরো কয়েকজন শ্রমিক চিকিৎসার জন্য আসছেন। অধিকাংশ শ্রমিকের বমি, মাথাঘোরা এবং দুর্বলতার উপসর্গ দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বেশিরভাগই আশঙ্কামুক্ত।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্যানিক অ্যাটাক হলো হঠাৎ তীব্র ভয় বা আতঙ্কের একটি মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া। এতে শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, শরীর কাঁপা, মাথাঘোরা এবং মৃত্যুভয়ের মতো অনুভূতি তৈরি হতে পারে। সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই এসব উপসর্গ তীব্র আকার ধারণ করে।
ঘটনার পর শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের খোঁজ নেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারখানাটি এক দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো বিষক্রিয়া নয়, বরং আতঙ্কজনিত প্রতিক্রিয়ার ফলেই একসঙ্গে এত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
"









































