নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশেষ শিশুদের সেবার জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

গ্রাম ও শহরের সব বিশেষ শিশুদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে বিশেষ প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি বড় প্রকল্প প্রস্তুত ও প্রণয়ন করেছে। ৩০ জুন পাস হতে যাওয়া নতুন জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ ও হ্রাসের জন্য সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ‘সিএসএফ সেন্টার’-এর সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রতিটি শিশুর সম্ভাবনার বিকাশে প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ, পুনর্বাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ড. মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এরই মধ্যে একটি সমন্বিত প্রকল্প প্রণয়ন করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো শহর, নগর কিংবা দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি বিশেষ শিশু যেন সরাসরি সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি পিছিয়ে পড়া মানুষের মানবিক উন্নয়ন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করাই আসল অগ্রগতি। তাই সরকার তার নীতি প্রণয়ন, বাজেট ও ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এনে দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষকে অন্য নাগরিকদের সমতুল্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, জন্মগতভাবে বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত শিশুরা যাতে অবহেলায় হারিয়ে না যায় এবং সমাজের মূল স্রোতে মিশে লেখাপড়া, কর্মসংস্থান ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেজন্য রাষ্ট্র তার কাঠামোতে স্থায়ী পরিবর্তন আনছে। নতুন জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ ও হ্রাসের জন্য সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ড. মুহিত বলেন, বিশেষ শিশুদের জন্য কেবল স্বাস্থ্যসেবাই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা যাতে অন্য সব শিশুদের মতোই সমান মর্যাদায় পড়াশোনা করতে পারে, সেজন্য শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলগুলোর পরিবেশ ও অবকাঠামো বিশেষ শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কড়াইল বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এখানে এসে যে ‘শিশু স্বর্গ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন, সেই মানবিক উদ্যোগটি বছরব্যাপী সচল থাকবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত এই সিএসএফ সেন্টারে এসে প্রান্তিক শিশুদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং সিএসএফ সেন্টারের মহাসচিব আবু ঈসা মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন।
"






































