শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ২ ঘণ্টা আগে

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের টাটকা মাছ

যমুনায় অনেক মাছ জেলেরা খুশি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর পানি বাড়ায় একদিকে নদীভাঙন ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হলেও অন্যদিকে এটি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে হাজারো জেলে পরিবারের জীবনে। নতুন পানির জোয়ারে নদীতে বেড়েছে মাছের বিচরণ, ফলে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলেপাড়ায়।

প্রতিদিন সকাল থেকে সদর উপজেলার ১ নম্বর ক্রসবার (চায়না বাঁধ), মতি সাহেবের ঘাট, বিএল স্কুল ঘাট, কাজিপুর, সোহাগপুর ও বেলকুচিসহ যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় নদীর মাছ ধরে মাছ বিক্রি করতে। এসব জেলেদের মাঝে ঝাঁকি জাল, খেওয়া জাল, বর্শি ও ধিয়াল নিয়ে চলছে মাছ ধরার উৎসব। জেলেদের জালে এখন ধরা পড়ছে বাতাসী, চিংড়ি, বাসপাতারী, রিটা, পাপতা, গুজি, বাচা, বাগাইড়, আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ।

পাশাপাশি পুঁটি, টেংরা, শিং ও টাকি মাছের সরবরাহও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে স্থানীয় বাজার ও মাছের আড়তগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে দিন দিন। মৌসুমি মাছ শিকারি শহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন পানি আসার পর থেকেই মাছের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে বড়শিতে ভালো মাছধরা পড়ছে। সুযোগ পেলেই তাই নদীতে মাছ ধরতে আসেন তিনি।

আক্কাস আলী জানান, সকালে জাল নিয়ে নদীতে নামলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পেশাদার জেলে নক্কা হালদার বলেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছের পরিমাণও বেড়েছে। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মাছ ধরা পড়ছে। কাজিপুরের জেলে হামিদ জানান, রাতভর মাছ ধরে ভোরে সিরাজগঞ্জ বাজারে বিক্রি করে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন তিনি। শহরের বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগেও ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এখন মাছের সরবরাহ বাড়ায় ব্যবসায় আবারও গতি ফিরেছে এবং সংসারে স্বস্তি এসেছে। জেলেদের ধরা মাছ বিক্রি হচ্ছে মতি সাহেবের ঘাট, বাউতারা, মেঘাইঘাট ও সোহাগপুর বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে। প্রতিদিন এসব স্থানে লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। এখান থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে যমুনার টাটকা মাছ।

আকারভেদে আইড় মাছ প্রতি কেজি ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা, ১০ কেজি বা তার বেশি ওজনের বড় আইড় মাছের দাম কিছুটা বেশি। বাঘাইড় মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি, বোয়াল মাছের আকারভেদে প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, চিতল মাছের প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, জেলার ২৫টি মৎস্য অভয়াশ্রমে সারা বছর মা মাছ সংরক্ষণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব মাছ ডিম ছাড়ে এবং পোনা ছড়িয়ে পড়ে প্লাবিত এলাকায়। এর ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মাছ সরবরাহ করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধিতে মৎস্যজীবীরাও মাছ ধরে বিক্রি শুরু করেছেন। এতে তাদের পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়