নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে একক ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ

দেশের সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলগুলোতে বর্তমানে ব্যবহৃত ভিন্ন ভিন্ন ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতিকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদনের ওপর অংশীজনদের মতামত নিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২৪ জুন সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। সভায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় কমিটির প্রস্তাবিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও একক প্ল্যাটফর্মের কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যমান আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) ভিত্তিক ইটিসি সিস্টেমগুলোকে এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) এর মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, তুলনামূলক কম ব্যয়ে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব।
সভায় সামগ্রিক কার্যপরিধি বিবেচনায় প্রকল্পটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ অথবা তাদের অধীনস্থ কোনো সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া গ্রাহকদের হয়রানি ও জটিলতা কমাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃথক ট্যাগ ব্যবহারের পরিবর্তে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক সরবরাহকৃত একটি একক আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহারের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য একটি সমন্বিত মোবাইল অ্যাপও তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন, টোল পরিশোধ, টোল সংক্রান্ত তথ্য, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ট্রাফিক সতর্কবার্তাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাবে। সভায় উপস্থিত অংশীজন ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবিত প্ল্যাটফর্মের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে গ্রাহক
নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, টোল পরিশোধ ব্যবস্থা আরও ব্যবহারবান্ধব করা এবং সিস্টেম ও আর্থিক লেনদেনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরটিএ, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি), এটুআই (অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি, বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে মতামত ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো স্মার্ট অবকাঠামো এবং নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা। দেশের বিভিন্ন স্থানে এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল ও ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তা আরও গতিশীল করতে টোল প্লাজাগুলোতে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা চালু করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এর ফলে যানবাহনের চলাচলের সময় কমবে, জ্বালানি অপচয় হ্রাস পাবে এবং জনভোগান্তিও কমে আসবে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের কাছে একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর রোডম্যাপ এবং সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল)সহ দেশের বিভিন্ন টোল প্লাজায় ব্যবহৃত পৃথক পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা এবং এর ফলে জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, একক টোল ব্যবস্থা চালু হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
"







































