ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

  ২ ঘণ্টা আগে

তিস্তায় বাড়ছে পানি, বন্যার আশঙ্কা

হঠাৎ করে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের আবাদি জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। নদীতে দীর্ঘদিন ধরে পলি ও বালু জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় পানি দুইকূল ছাপিয়ে চরের ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের কৃষকরা।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ ক্রমাগত বাড়তে দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার পরিমাপে পানি বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটারের মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে গত শুক্রবার সকাল থেকেই পানি বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। শুক্রবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও ধাপে ধাপে তা বৃদ্ধি পায়। দুপুর ১২টায় আরো ২ সেন্টিমিটার, বিকেল ৩টায় ৮ সেন্টিমিটার এবং সন্ধ্যা ৬টার পরিমাপে পানি পৌঁছায় ৫১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটারে, যা বিপৎসীমার মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এক দিনের ব্যবধানে নদীর পানি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে শুক্রবার ডালিয়ায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা অংশ নেন। একই সময় থেকে উজানের ঢল নামতে শুরু করে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানি বাড়লেও এবার শুরুতেই পানির প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নদীর চরাঞ্চলে যেসব কৃষক বাদাম, ভুট্টা, শাকসবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল আবাদ করেছেন, তারা ক্ষতির শঙ্কায় দিন পার করছেন।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চর খড়িবাড়ী এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, তিস্তা নদী পলি-বালু জমে অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে। তাই পানি বাড়লেই নদী উপচে জমিতে চলে আসে। এখন জমিতে বাদামসহ বিভিন্ন ফসল আছে। পানি যদি কয়েক দিন থাকে তাহলে বড় ক্ষতি হবে।

তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণেই তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে পানি পরিস্থিতি আরো পরিবর্তিত হতে পারে। নদীতীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়