ইসরাফিল নাঈম, চরফ্যাশন (ভোলা)
চরফ্যাশন
ভূমি অফিসে ঘুষ-বাণিজ্য অনিয়ম

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি ও খাজনা আদায়ে ব্যাপক অনিয়ম এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তহসিলদার মো. জসিমের বিরুদ্ধে। সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো কাজই হচ্ছে না এই অফিসে।
গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র দেখা যায়, যা গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের তহসিলদার মো. জসিম টাকা ছাড়া কোনো কাজ করছেন না। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিটি নামজারিতে সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও বাস্তবে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়াও খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে নামজারি কিংবা খাজনার কাজ দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। নামজারি করতে আসা মো. আক্তার নামের এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে নামজারির জন্য গেলে তহসিলদার মো. জসিম সরাসরি ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। ৭ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।
আরেক সেবাপ্রত্যাশী স্থানীয় আবদুল মালেক জানান, দুই একর জমির নামজারির জন্য তহসিলদার জসিম ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। মানুষের আর্থিক অবস্থা বুঝে আরো বেশি টাকা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তহসিলদার মো. জসিম সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে বলেন, ‘এখানে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলে এসিল্যান্ডকে জানাতে বলেন তিনি।’ এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হক বলেন, সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"








































