নিজস্ব প্রতিবেদক
এজেন্ট নিয়োগ করে অনলাইন জুয়া, গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলেন- সোলায়মান (৪৭), সাগর মিয়া (২৮) ও জুয়েল রানা (৩২)। গত রবিবার টাঙ্গাইল সদর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার সিআইডির মিডিয়া বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা ও অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছে। বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে ১৭ মে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা করে। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
যেভাবে পরিচালিত হতো অনলাইন জুয়ার সাইট : সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অনলাইন বেটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট অনলাইন সাইটে একটি একাউন্ট (ওয়ালেট) খুলতে হতো। পরে অভিযুক্তরা বেটিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়), ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করেছিল। অংশগ্রহণকারীদের জমাকৃত অর্থের বিপরীতে তাদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত হলে পরবর্তীতে তা অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
সিআইডি তদন্তে আরো জানতে পারে, গ্রেপ্তাররা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করেছিল। এজেন্টদের নিয়োগের পর তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করেছিল। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা তাদের কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করে আসছিল। মামলাটির তদন্তে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত একটি এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সোলায়মান অর্থের বিনিময়ে তার এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়ার সাইটে পরিচালনার জন্য মো. সাগর মিয়াকে সরবরাহ করেছিলেন। সাগর মিয়া ও জুয়েল রানা হলো এমএফএস এর ডিএসও, তারা নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশনের বিনিময়ে জুয়ার সাইটে বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে দিতেন। আর এসব সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
"







































