নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৮ জানুয়ারি, ২০২৫

উত্তরায় রাজউকের জমি লিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব

স্থানীয় আবদুল লতিফের নামে রাজউক উত্তরা ১১নং সেক্টরের একটি জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। রাজউক সূত্র জানায়, আবদুল লতিফ রাজউকের একজন লিজ গ্রহিতা। আর রাজউকের বোর্ড সভার অনুমতিক্রমেই সাড়ে চার কাঠার প্লটটি লতিফের নামে বরাদ্দ দেয় রাজউক, এ বরাদ্দ দেওয়ায় কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি। ১১নং সেক্টর কল্যাণ সমিতিকে জায়গাটি অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্য লিখিতভাবে অনুমতি দিয়েছিল রাজউক। অস্থায়ী ব্যবহারের অনুমতি লিখিতভাবে চাওয়ার বিপীরতে রাজউক ৪টি শর্তে জমিটি কল্যাণ সমিতিকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। অনুমতির স্মারকে দেওয়া শর্ত মতে, ভবিষ্যতে এই জমি নিজেদের বলে দাবি করা যাবে না, কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না, কারো নিকট হস্তান্তর করা যাবে না। সর্বশেষ শর্তে উল্লেখ আছে, রাজউক চাহিবামাত্র কোনো আপত্তি না করেই এই জমি রাজউককে ফেরত দিতে হবে।

রাজউক জানায়, সুস্পষ্ট শর্তের আলোকে জমি ব্যবহার করে এখন মালিক সাজতে বসেছে দখলদার কল্যাণ সমিতি। রাজউক জায়গাটি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে একজনকে বরাদ্দ দেয়। সেখানে আরো একটি প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন। সবকিছু জেনে বুঝে কল্যাণ সমিতির নামে অবৈধভাবে মানববন্ধনের কোনো যুক্তি নেই। রাজউক আইন মেনেই সব করেছে।

এদিকে লিজ গ্রহিতার একটি সূত্র জানায়, আবদুল লতিফকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই মানববন্ধনে তাকে নিয়ে যা ইচ্ছে তা বলা হয়েছে। এগুলোর পেছনে অন্য কারণ আছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১১নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির স্থাপনার আগে জায়গাটি অবৈধভাবে দখল করেছিলেন পতিত আওয়ামী লীগে দলীয় কাউন্সিলর শরিফুর রহমান। তার ব্যক্তিগত অফিসটিকে পরে কল্যাণ সমিতির নামে অস্থায়ীভাবে সমিতির অফিস বানানো হয়। এখানে লিজ গ্রহিতাকে উদ্দেশমূলক টার্গেট করা হয় কিছু অনৈতিক সুবিধার জন্য। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কল্যাণ সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়া এবং তার স্ত্রী কল্যাণ সমিতির সাবেক নেতা আবেদা খাতুন যুব মহিলা লীগের রাজনীতি করেন। তিনি দলীয় নমিনেশনে মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচনও করেন। তার স্বামী ফিরোজ এবং সে নিজে উত্তরা ম্যাসাকারের হত্যা মামলার আসামি। মূলত তারা এবং তাদের আপন ভাগিনা বিএনপি নেতা আফাজ উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে প্লটটি বরাদ্দ নেওয়ার জন্য নানা চেষ্টা তদবির করেও ব্যর্থ হন। সেই ব্যর্থতা থেকেই কল্যাণ সমিতির নেতা সেজে অবৈধ মানববন্ধন করছে জমিটিতে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য।

এ ছাড়া লিজ গ্রহিতা তাদের পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তাকে চাপে ফেলে প্লট দুটি নিজেদের কব্জায় নিতেই মানববন্ধনে আবদুুল লতিফকে ঘিরে নানা মিথ্যাচার করে, অপমানজনক স্লোগান দেওয়া হয়, যাতে লতিফ প্লটটি ঠিকমতো ব্যবহার করতে না পারে।

এ বিষয়ে লতিফ বলেন, আমি নিয়ম মেনে রাজউকের একজন লিজ হোল্ডার। রাজউকের জায়গা আমার অনুকূলে আনা কি অপরাধ? আমি যে সঠিক জায়গায় আছি, রাজউকও আইন মেনেই সব করেছে, তা সবাই জানে। মানববন্ধনে তারা আমাকে যেভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছে যেন আমিই সরকারি সংস্থা। এগুলো ঠিক না। আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ, নিজের বসবাসের জন্য জায়গাটি লিজ নিয়েছি। তাহলে আমি ভিকটিম হতে যাব কেন?

১১নং কল্যাণ সমিতির নামে অস্থায়ীভাবে জমিটি ব্যবহারের অনুমতির আবদেনকারী ড. মঈন খানকে অস্থায়ী অনুমতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হ্যাঁ সঠিক। তবে আমরা স্থায়ীভাবে পাওয়ার জন্যও আবেদন দিয়েছিলাম। সেটি বিবেচনায় না নিয়ে জমিটি অন্য একজনকে বরাদ্দ দিয়েছে। এটা ঠিক করেনি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়