নিজস্ব প্রতিবেদক
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা
হেলমেট ব্যবহার নিয়ে আসছে নীতিমালা

দেশে প্রতি বছর যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনা তুলনামূলক বেশি। মারাত্মক এসব দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানিও ঘটে। এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হেলমেট নিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের সচেতনতার অভাব। হেলমেট ব্যবহারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এড়ানো। কিন্তু মোটরসাইলেক চালকদের অনেকেই হেলমেট ব্যবহারে উদাসীন। ফলে মোটরসাইকেল সংক্রান্ত সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হেলমেট নীতি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
মোটরসাইকেলের হেলমেটের মান নির্ধারণের জন্য ব্র্যাকের নেতৃত্বাধীন একটি সংগঠন সুপারিশের খসড়া তৈরি করেছে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সদর দপ্তরে এ বিষয়ক নীতিমালা সংক্রান্ত একটি কর্মশালা হয়। আমলা, পুলিশ ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাসহ সব স্টেকহোল্ডাররা ওই কর্মশালায় অংশ নেন। ব্র্যাকের পরিচালক (সড়ক নিরাপত্তা) আহমেদ নাজমুল হুসাইন বলেন, কর্মশালা থেকে পাওয়া সব পরামর্শকে একত্রিত করে এ বিষয়ক নীতিমালা সংক্রান্ত একটি কাঠামো তৈরি করা হবে। পরে সেটি সরকারের কাছে জমা দেব।
নাজমুল হুসাইন আরো বলেন, আমরা নীতিমালায় বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের মানসম্পন্ন হেলমেটের সুপারিশ করেছি, যা খুব বেশি ব্যয়বহুল নয়। এসব হেলমেটের মধ্যে প্লাস্টিকের হেলমেটই মোটরসাইকেল চালকরা বেশি ব্যবহার করেন, যেগুলোর দাম ৬০০ টাকার মতো। অন্যদিকে, খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী জাতিসংঘের মানসম্পন্ন হেলমেটের দাম ১২ থেকে ২০ মার্কিন ডলার (১,১২০ থেকে ১,৮৭০ টাকা)।
বিআরটিএর তথ্যমতে, ঢাকায় প্রায় ১০ লাখ মোটরসাইকেল আরোহীসহ সারা দেশে ৩৬ লাখ মোটরসাইকেল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৩ লাখ মোটরসাইকেল আরোহীর ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, মাত্র ১০ শতাংশ মোটরসাইকেলচালক এবং যাত্রীর আসনে থাকা ২ শতাংশ আরোহী মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করেন।
এআরআই অনুসারে, প্রায় ৭ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঢাকায় এবং ৯৩ শতাংশ ঢাকার বাইরে ঘটে। স্বাভাবিকভাবেই এসব দুর্ঘটনায় শহরের চেয়ে গ্রাম এলাকায় মৃত্যু ও হতাহতের সংখ্যা বেশি।
২০২১ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক হাজার ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়, যা ২০২০ সালে ছিল ১ হাজার ৯৭ জন। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি থাকে।
বুয়েটের এআরআইর পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, একটি মানসম্পন্ন হেলমেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি মৃত্যুর ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিতে সক্ষম।
রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট-২০১৮ আইনে চালক এবং যাত্রীদের সঠিকভাবে হেলমেট পরার কথা বলা হলেও এর পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা নেই। নতুন নীতিমালায় হেলমেটের সঠিক ব্যবহার এবং কার্যকর করার প্রক্রিয়ার উল্লেখ থাকবে।
বিআরটিএর পরিচালক (সড়ক নিরাপত্তা) এস কে মো. মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করতে হেলমেট সংক্রান্ত নীতি ভূমিকা রাখবে কারণ এতে হেলমেটের সঠিক ব্যবহার এবং এর মান বর্ণনা করা হবে। নীতিমালা অনুসরণ করার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত ট্রাফিক কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে ঢাকায় বেশিরভাগ মোটরসাইকেলচালক এবং যাত্রী হেলমেট ব্যবহার করলেও সেগুলো নিম্নমানের। আমরা তাদের মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি।
"







































