সাকিব আল মামুন, গোলাপগঞ্জ (সিলেট)

  ২৬ এপ্রিল, ২০১৯

সিলেটে প্রত্নসম্পদ প্রাচীন মন্দির ধ্বংসের পথে!

সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ মিশ্রপাড়ায় শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজড়িত (দাদার বাড়ির) পুরোনো মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে। সিলেট অঞ্চলে প্রাচীন স্থাপত্যকলাপ্রেমীদের ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি স্থান উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ মিশ্রপাড়ার এই মন্দিরটি। পাহাড়ের টিলা ঘেরা সবুজের মাঝে ৫০০ বছর আগে নির্মিত এ মন্দিরটি। কিন্তু যতেœর অভাবে এটি এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে।

সারা বছরই ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা থাকলেও প্রতি বছর চৈত্র মাসে হাজারো পুণ্যার্থী আর ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নামে মন্দির দর্শনে। পাহাড়ের ওপর মোঘল আমলে নির্মিত এ মন্দিরটির সামনাসামনি একইসঙ্গে দুটি মন্দিরের দেখা মিলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে মন্দির দুটি শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর দাদার বাড়ির মন্দির নামে পরিচিত। মন্দির দুটির ঠিক সামনে আরেকটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। আর সেগুলোর পাশে রয়েছে একটি তুলসিবেদি, যেটি সেবায়েত ও পূজারিদের সন্ধ্যা আরতি ও প্রদক্ষীণের জন্য তৎকালীন সময় নির্মাণ করা হয়েছিল। জানা যায়, রাজা গোলাব রায় এটি নির্মাণ করেছিলেন। বিভিন্ন সময় দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যকলার নিদর্শনটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপরে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ভূমিখেকোদের নজরে পড়ে মন্দিরের বেশকিছু অংশ বিলীন হয়ে গেছে।

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর দাদা উপেন্দ্র মিশ্রের বাড়ি এটি। মোঘল শাসনামলে সম্রাট মুহম্মদ শাহ্র (১৭১৯-৪৮) রাজত্বকালে ১৭৪০ সালে শ্রীহট্ট জেলার (বর্তমান সিলেটের) দেওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা) নিযুক্ত হয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে আসেন গোলাবরাম (মতান্তরে গোলাবরায়)। এ সময়ে সিলেট অঞ্চলের ফৌজদার ছিলেন শমসের খান। সনাতন ধর্মাবলম্বী গোলাবরাম খুবই ধর্মপ্রাণ ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই ধর্মপ্রাণ দেওয়ান বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রী চৈতন্যের পৈতৃক ভূমি দেখতে শ্রীহট্ট জেলা (বর্তমান সিলেট) থেকে হেটে ঢাকা দক্ষিণের উদ্দেশে আসেন। শ্রী চৈতন্যের পৈতৃক ভূমি দেখতে যান। সেখানে যাওয়ার পর মন্দিরের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে সেটি মেরামতের বাসনা করেন। সেই অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণের মিশ্রপাড়ায় তারই নির্দেশে মন্দির স্থাপন এবং সেখানে একটি দীঘি খনন করা হয়।

এখন মন্দিরটির ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চারদিকে জঙ্গল, ঝোপঝাড়ে ঘেরা। রাস্তা বেয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে যাওয়াও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এতদঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন সরকার যদি মন্দিরটির সংস্কার করে পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলে তাহলে দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক এখানে আসবে এবং প্রচুর রাজস্ব আয় হবে।

গোলাপগঞ্জের ইতিহাস নিয়ে কাজ করা প্রবীণ সাংবাদিক রতন মনী চন্দ বলেন, আমাদের এ উপজেলার প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ, সংরক্ষণের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কি-না তা জানার জন্য গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার সুমন্ত ব্যানার্জির মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়