স্পেনকে হারানোর মতো যথেষ্ট ভালো খেলেনি ফ্রান্স : দেশম

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হলো টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সের। সেমিফাইনালের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছেন কিলিয়ান এমবাপেরা। ম্যাচে স্পেনের এই কৌশলী ও নিখুঁত ফুটবলের সামনে ফরাসিদের আক্রমণভাগ ছিল সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ। এই হারের মাধ্যমে ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশমের ১৪ বছরের দীর্ঘ ও সফল অধ্যায়েরও অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্প্যানিশদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে চাপে পড়ে ফ্রান্স। ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে নেন মিকেল ওয়ারজাবাল। ফরাসি ডিফেন্ডার লুকা ডিনিয়ে ডি-বক্সের ভেতর তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমোর সহায়তায় স্পেনের হয়ে দ্বিতীয় ও জয়সূচক গোলটি করেন পেড্রো পোরো। এই গোলের সময় পরিসংখ্যানে স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ফ্রান্সের মাত্র ২টি শটের বিপরীতে স্পেন ৮টি শট নেয়। এছাড়া, ৬০ শতাংশ বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে স্প্যানিশরা।
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা ফ্রান্সের আক্রমণভাগ স্পেনের রক্ষণদুর্গ ভাঙতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আগের ছয় ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপে, ওসমান ডেম্বেলে এবং মাইকেল অলিসের ত্রয়ী যেখানে ১৩টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। সেখানে স্পেনের বিপক্ষে তারা যৌথভাবে মাত্র ৫টি শট নিতে সক্ষম হন। যার মধ্যে গোল পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ০.১৫!
ম্যাচ শেষে নিজের দলের কারিগরি দুর্বলতা স্বীকার করে ফ্রান্সের বিদায়ী কোচ দিদিয়ে দেশম বলেন, আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হতো। দুর্ভাগ্যবশত, আজ আমরা তা পারিনি। স্পেনের রক্ষণভাগ দুর্দান্ত ছিল। তারা আমাদের খুব কম জায়গা দিয়েছে। আমাদের পাসিং কম্বিনেশন এবং টেকনিক্যাল লেভেল আগের ম্যাচগুলোর চেয়ে অনেক নিচে ছিল।
তবে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করার পাশাপাশি রেফারি ইভান আরসাইডস বার্টন সিসনেরোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দেশম। বিশেষ করে প্রথম পেনাল্টির আগে ইয়ামালের কনুইতে বল লেগেছিল কিনা, তা নিয়ে ফরাসি শিবিরে ক্ষোভ রয়েছে। দেশম বলেন, আমি কিছু বললে মনে হবে হেরে গিয়ে অজুহাত দিচ্ছি। কিন্তু আমি আপনাদের কাছেই প্রশ্ন রাখছি এই রেফারি কি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পরিচালনার যোগ্য ছিলেন?
টানা তিনটি ফাইনাল খেলার রেকর্ড ছুঁতে না পারলেও বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক রেকর্ড দুর্দান্ত। গত ২১টি বিশ্বকাপ ম্যাচের মধ্যে এটি ছিল নির্ধারিত সময়ে তাদের মাত্র দ্বিতীয় হার।
আগামী শনিবার ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরাজিত দলের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিই হবে ফরাসি কোচ হিসেবে দেশামের শেষ ম্যাচ। ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ফরাসি দলের পরবর্তী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।









































