পদ্মা সেতুর অনন্য মাইলফলক
৪ বছরে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা টোল আদায়
বকেয়ামুক্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে দেশের অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুটি শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার ভাগ্যই বদল করেনি, বরং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে অনন্য আর্থিক শৃঙ্খলার নজির স্থাপন করেছে। উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত ২ কোটি ৬৮ লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করেছে। এ সময়ে টোল বাবদ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভিত্তিপ্রস্তর: সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা) সম্পন্ন করা হয়।
সমীক্ষায় নির্ধারিত ৪-লেনের হাইওয়ে এবং ভবিষ্যৎ রেল সংযোগের প্রাথমিক কারিগরি প্রস্তাবটিই পরবর্তীতে সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন সরকারের এই মেয়াদে মাওয়া-জাজিরা রুটটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে যুক্ত করার প্রধান রুট হিসেবে স্থায়ী রূপ পায় এবং সংযোগ সড়ক ও নদী শাসনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়, যা পরবর্তী মূল নির্মাণ কাজকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।
যানবাহন চলাচল ও টোল আদায়ের খতিয়ান: বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৩০,৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর ২৬ জুন থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
যানবাহন পারাপার: ২৬ জুন ২০২২ থেকে ২৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লক্ষ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
রাজস্ব ও ভ্যাট: এ পর্যন্ত টোল বাবদ মোট ৩,৪২৯ কোটি ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর মধ্যে মোট আদায় করা টোলের ১৫% ভ্যাট বাবদ ৪৩৬ কোটি ০৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ঋণ পরিশোধে শতভাগ সফলতা: সরকারের অর্থ বিভাগের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, ১% সুদহারে ৩৫ বছরের মধ্যে ১৪০টি কিস্তিতে সুদসহ মোট ৩৬,০০০ কোটি টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, কোনো কিস্তি বকেয়া না রেখে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত ১৬টি কিস্তির মাধ্যমে মোট ২,৫১৬ কোটি ৬৮ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সফলভাবে জমা দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও আধুনিকায়ন: বর্তমানে সরকারের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সেতুর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আধুনিক ও জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ বিভাগের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে "সবার আগে বাংলাদেশ" বিনির্মাণে সেতু খাত অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।








































