মোহাম্মদ আবু নোমান

  ১২ অক্টোবর, ২০২১

কাশবনে আগুন, বলধায় লীলা, ধর্ষণে পোশাকের দায়!

সিলেটের গোলাপগঞ্জের চৌঘরী এলাকায় কাশবনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী

দেশের সরকারি বিভিন্ন উপলক্ষে বা ছুটির দিন অথবা আন্তর্জাতিক কোনো দিবসে অনেক ছেলে-মেয়ে, মা-বাবা, ভাই-বোন, পরিবার-পরিজন শিশু-কিশোরসহ ঘুরতে বের হন কিছুটা মানসিক স্বস্তির (রি-ফ্রেসমেন্ট) জন্যে। কিন্তু অনেকেই এখন পার্ক বা বিনোদন স্পটগুলো এড়িয়ে কিছুটা নীরব ও স্বস্তিদায়ক প্লেস খোঁজেন। বিশেষ করে যারা শিশু-কিশোর নিয়ে বের হন তারা শিশুদের মানসিক দিকটি নিয়ে ভাবেন। এর কারণ, ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৫ আগস্ট, ২৬ মার্চ, ১ মে সবই যেন এখন ‘ভালোবাসা দিবস’ বনে গেছে। 

বিশেষত, ব্যক্তি কোথায় ঘুরতে যাবেন, কার সঙ্গে যাবেন; এটা যদিও তার ব্যক্তিগত বিষয়। এটা ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তিনি প্রকাশ্যে অসভ্যতা করে না বেড়ান। ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে, কিশোর, তরুণসহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পার্ক, রিসোর্ট বা বিনোদন স্পটে ‘বউ জামাই’ ভাবের শোহাগে, ন্যাকামি-স্যামাকি ও সুড়সুড়ি মার্কা ছলা-কলা গ্রহণীয় নয়। আমরাতো মানুষ! হিস্র জানোয়ার বা কুকুর হয়ে যাইনি যে, যেখানে যা ইচ্ছে হবে!

গত ১ অক্টোবর সিলেটের গোলাপগঞ্জের চৌঘরী এলাকার কাশবন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর দাবি, কাশবনে অশ্লীল কর্মকাণ্ড হয়। এসব কর্মকাণ্ড এড়াতে তারা কাশবনে আগুন দিয়েছে। 

চৌঘরী এলাকার এক বাসিন্দা ব্যক্তিগতভাবে বালু উত্তোলন করে জমিয়ে রেখেছিলেন। বেশ কিছু দিন ধরে ওই এলাকায় জমিয়ে রাখা বালুতে প্রাকৃতিকভাবেই কাশবন হয়। কাশবনটির জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। দর্শনার্থী বাড়তে থাকায় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে দর্শনার্থীদের কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কাশবন দেখার নাম করে অনেকেই অশ্লীল, অসামাজিক কর্মকাণ্ড করছেন। এতে আমাদের পরিবার নিয়ে বসবাস দায় হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। সব দিক বিবেচনা করে কাশবনে আগুন দেওয়া হয়।’ 

কাশবনে আগুন দেওয়ায় দেশের প্রগতিশীল পাড়ায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। অনেকেই অমানবিক, সুনাগরিকের পরিচয় না দেওয়া ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্রি মাইন্ড নিয়ে ঘুরতে আসা, স্বাধীনতা ও ফ্রি মিক্সিংয়ের নামে যারা অসভ্যতা ও অসামাজিকতাকে লিখনি বা বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমোট ও শিল্পে পরিণত করতে চায়, তাদের এরকম মন্তব্যই স্বাভাবিক। কথিত আছে, শেয়ালের বড় কষ্ট, মুরগির ‘খোপে’ কেনো খিল লাগানো হয়। শেয়াল সব সময় মুরগীর স্বাধীনতা চায় বা চাবে, এটাই স্বাভাবিক। 

তথাকথিত প্রগতিবাদীরা বলেন, কাশবন তো আর কোনো ‘অশ্লীল’ কাজ করেনি। কেন তাকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হলো... ইত্যাদি। আসলে মানুষের দেহ তো কোনো অপরাধ করে না, অপরাধ করে মস্তিষ্ক। তবে কেন দেহটাকে ফাঁসি দেওয়া হয়?  শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে কি হবে, যদি না চারিত্রিক সৌন্দর্য থাকে। দৃষ্টি ভঙ্গি আর মানসিকতার দোষ দিয়ে নোংরামিকে প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক নয়। সকল খারাপ কাজের পেছনে পরিবেশ আর সুযোগ দায়ী একথা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তথাকথিত আধুনিকতার নামে অশ্লীলতা আর বেহায়াপনাই যেনো আজকের সমাজে উন্নত শিল্পবোধের পরিচয়! এখন তো রীতিমত প্রতিযোগিতা হচ্ছে আধুনিকতার নামে কে কতো খোলামেলা হতে পারে। পশ্চিমা সংস্কৃতির ফেরি করে এদেশের তরুণদের নৈতিকস্থলনের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। যারা এসব বেহায়াদের ভিড়ে মিশতে পারেন না নিজেদের আদর্শ, পারিবারিক ঐতিহ্য, শিষ্টাচার, মূল্যবোধ এবং বিবেকের কাছে হার না মেনে, ঘুনে ধরা এই সমাজের কাছে তারাই সেকেলে, তারাই পিছিয়ে পড়া হিসেবে বিবেচিত। 

কেমন সামাজিক পরিবর্তন সেটা, যে সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মানুষের মনুষত্বই থাকে না, নিজের নৈতিক বিবেকবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, মার্জিত রুচিবোধের কোনও অস্তিত্বই থাকে না! মানুষ নেমে আসে পশুর কাতারে, কেমন সামাজিক পরিবর্তন সেটা?

যাই হোক, কাশবনটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ছিল। আঞ্চলিক ভাষায় এগুলোকে ‘কেইচ্ছে’ ‘কুশ’ বা ‘ছন’ গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস ক্ষেত বলে। কৃষকদের জমি চাষাবাদের জন্য এগুলোকে কেটে শ্রম দেওয়ার চেয়ে আগুন দিয়ে জমিকে চাষযোগ্য করা সহজ। তাছাড়া নিজের জমির আগাছা পরিষ্কার করতে হলে অনুমতি লাগবে কোনো?

গোলাপগঞ্জের ব্যাপারটি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার, কেবল আইনের নয়। যখন কেউ প্রকাশ্যে অসভ্যতা করে বেড়ান, তখন আর সেটা ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না, সামাজিক বিষয় হয়ে যায়। এবং এটাকে সামাজিকভাবেই প্রতিহত করা জরুরি। রেজিস্টার্ড পতিতালয়ে খদ্দের হিসেবে যাওয়া হয়ত আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে তা সামাজিকভাবে নয়। এটাই ব্যাপার। আমরা শুধু আইন নিয়েই বাস করি না। সমাজ নিয়েও বাস করি। অশ্লীলতা কোন আইনে পড়ে? রাজধানীর বলধা গার্ডেন, দিয়া বাড়ি, মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন, হাতিরঝিলসহ পর্যটন স্পটগুলোতে প্রকাশ্যে যে অবস্থা, তাতে বোঝায় যায় কাশবনের আড়ালে-আবডালে, বা কাশবনের গভীরে কি অশ্লীলতা হতে পারে! এখন তো আড়ালেও নয়, আমরা বিনোদন স্পটগুলোতে প্রকাশ্যে বেডরুম বা অন্দরমহলের চিত্র দেখতে পাই। বিশেষ করে শিশু-কিশোর শিশুদের নিয়ে যে সকল পরিবার বিনোদন স্পটগুলোতে এমন দৃশ্য দেখেন তারা সন্তানদের সামনে বিব্রত হয়ে পড়েন।    

দেশে ঘুষ আছে, ঘুষের টাকায় জমি, বাড়ি, গাড়ি, দামি সব জিনিস কিনে বুক ফুলিয়ে চলতে পারি। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারি। পর্নসাইট দেখতে পারি, তাই অশ্লীলতা থাকলে কি হয়েছে? এই টাইপের মায়াকান্না করার কোনও মানে নেই। যেটা অন্যায়, সেটাকে থামাতে হবে। দেশে খুন হয় দেখে কি ধর্ষণকে বৈধতা দেওয়া হবে? তাহলে অশ্লিলতাকে ঘুষের বিপরীতে দাঁড় করানোর মানে কী? দুটোই অন্যায় এবং একটা চলার অজুহাতে আরেকটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এখন দুনিয়াটা হাতের মুঠোয়। মোবাইল, টিভি, ইন্টারনেট সবখানেই যৌনতার ছোয়া। আজকাল নাটক সিনেমায় বিয়ে, প্রেম এসব একমাত্র গল্প । গানের ভিডিওতে নায়িকাদের শরীর প্রদর্শন। এখন মেয়েরা ১৩-১৪ বছর এবং ছেলেরা ১৬-১৭ বছর বয়সে নিজেকে ম্যাচিউরড ভাবে। এমন ঘটনা অনেক রয়েছে, ১৩/১৪ বছরের মেয়েরা কোর্টে দাঁড়িয়ে বলে, আমি বড় হয়েছি, নিজেকে বুঝতে পারি, বাবা-মার সাথে নয়, আমি আমার পছন্দের মানুষের কাছেই যাবো। এমন অবস্থায় বিয়েকে আরও সহজ করে দেওয়া জরুরি।

বলধায় লীলা : পুরান ঢাকার ওয়ারীতে অবস্থিত বলধা গার্ডেনকে অভিহিত করা হয় ফুল ও উদ্ভিদের জাদুঘর হিসেবে। কিন্তু এই উদ্ভিদ জাদুঘর এখন পরিণত হয়েছে প্রেমকাননে। মনুষ্যপ্রেমীদের দাপটে নির্বাসিত বৃক্ষপ্রেমীরা। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী উদ্ভিদ পার্কটি পরিণত হয়েছে অশ্লীলতা, নোংরামির আখড়ায়। এখন আর কোনও ভদ্র, রুচিশীল মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসার সাহস করেন না। পার্কটিতে প্রবেশ করলে যে কাউকেই পড়তে হবে বিব্রতকর অবস্থায়। এমন দৃশ্য চোখে পড়বে যা হয়ত বাইরে প্রকাশ করতেও কুণ্ঠাবোধ করবেন অনেকে। গাছের ফাঁকে ফাঁকে দেখা মিলবে স্কুলড্রেস পরা ছাত্রীদের। চোখে পড়বে হাতে হাত ধরে কপোত-কপোতীদের চুম্বন দৃশ্য বা এরচেয়ে বেশি কিছু। আপত্তিকর অবস্থায় চোখের সামনে পড়ে যেতে পারে নিজের একান্তই ঘনিষ্ঠ কেউ। কর্তৃপক্ষের এখনই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই হয়ত নিজের সন্তানটিকেই দেখা যাবে নৈতিক অবক্ষয়ের শেষ সীমায় দাঁড়িয়ে।

এছাড়া রাজধানীর বোটানিক্যাল গার্ডেন এখন নিরাপদ ডেটিং জোন। কিছু স্থানীয় মাস্তান এবং ইজারাদারের নিয়ন্ত্রণে চলছে নানা অসামাজিক কাজ। আমাদের জাতীয় উদ্যানটিকে কেউ কেউ অভিহিত করছেন রাজধানীর সেক্স প্লেস হিসেবে। ডেটিং করতে আসা বেশির ভাগই মধ্যবয়সী, এখানে টিনএজার প্রেমিক জুটির সংখ্যা কম। বোটানিক্যাল গার্ডেনের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বললেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে আছি, একটা বিষয় লক্ষ্য করছি, এখানে এখন যারা ঘুরতে আসে তাদের বেশির ভাগই পরকীয়া করে।’ পরিবার পরিজন নিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন দেখতে এসে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে বলে অনেকে এখানে আসতে চান না। পার্কের ভিতর গেলে যে কারও মনে হবে এটা যেন কোনও এক যৌনপল্লী কিংবা প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য নানা ভঙ্গিতে যৌন কসরত করার প্রতিযোগিতা কেন্দ্র। তারা যা করছে তা বর্ণনার অযোগ্য। 

ধর্ষণে পোষাকের দায় : নারী এবং পুরুষের শারীরিক আকর্ষণ চিরন্তন। নারী চিরদিনই পুরুষের দুর্বল জায়গা। চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করবেই; বিকর্ষণ ঘটাতে হলে অবশ্যই তুলনামূলকভাবে দূরে রাখতে হবে। মিষ্টির ওপর মাছি বসবেই। কারণ, প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ম হলো মিষ্টির প্রতি মাছির আকর্ষণ। মিষ্টি, চুম্বক ও মাছির ফিগার এবার ধর্ষণের ওপর পাল্টে দিলে কী রেজাল্ট হবে? চুরি থেকে রক্ষা পেতে মানুষ তালার ব্যবস্থা করে। তালা মারার পরও চুরি হলে কি এ কথা বলা যাবে- তালা মেরে কী লাভ? তালাও তো রক্ষা করতে পারে না? পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা পোশাক বা অবাধ নারীদেহ প্রদর্শণ ধর্ষণের জন্য কোনো একটিই এককভাবে দায়ী নয়। পুরুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ, নৈতিক শিক্ষা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও নারীর সংযমী লাইফস্টাইল, উভয়মুখী প্রচেষ্টায়ই কেবল ধর্ষণ কমাতে পারে।
নারীর খোলামেলা পোশাক ও চলাফেরা যদি ধর্ষণের জন্য সহায়ক হয়, তাহলে আপাদমস্তক বোরকা পরা মেয়েটি কেন ধর্ষণের শিকার হয়? এ প্রশ্ন অনেকের। এছাড়া অনেকেই বলে থাকেন, ধর্ষণের জন্য যদি পোশাক দায়ী হয় তাহলে ৫ বছরের শিশু ধর্ষিত হয় কেন? 

নরাধম ধর্ষকের উম্মাদনা এবং পশুত্ব জাগ্রত করতে ভূমিকা রেখেছে অনলাইন বা অফলাইনে প্রদর্শিত নারীদেহের খোলামেলা কিংবা যৌন আবেদনময় দৃশ্য। আমরা আজ থেকে ৩০/৪০ বছর আগে তো দেখিনি ৫ কিংবা ৬০ বছরেও ধর্ষণের শিকার হওয়া। এখন কেন হচ্ছে? বাংলায় একটা কথা আছে ঠেলায় পড়লে বাঘেও ধান খায়। অর্থাৎ বাঘ যখন হরিণের সুস্বাদু মাংস পায় না। ক্ষুধার জালায় তথনই ধান খায়। তেমনিভাবে এই অশ্লীল ও কামুক সমাজ মানুষকে একপ্রকার পশুতে পরিণত করেছে, যে কোনও মূল্যে তার জৈবিক চাহিদা পূরণ করা চাই। যার বলি হচ্ছে শিশুরা ও বৃদ্ধারাও। ব্যাংকে গিয়ে বা অন্য কোথাও টাকা পয়সা দেখে চোর বা ছিনতাইকারীরা লোভে পরে। কিন্তু তারা ওখান থেকে চুরি করতে পারে না। তাই তারা সুযোগ বুঝে দুর্বলের কাছ থেকে ছিনতাই করে। এটা একটা সহজ হিসাব।

পশ্চিমা সংস্কৃতি আর পার্শ্ববর্তী দেশের সিমেটিক পোশাক, উদাসীন বিলাস, পরনির্ভরশীল সাংস্কৃতি, আমাদের সামাজিক এবং চারিত্রিক মূল্যবোধকে ধংস করেছে, যার প্রভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী থেকে শুরু করে বৃদ্ধা মহিলা এমন কি শিশুরাও বলি হচ্ছে। সেইম কারণেই নষ্ট চরিত্রের মানুষরূপি পশুগুলা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতেই শিশুদের ধর্ষণ করছে। একজন পুরুষ নগ্ন যুবতীকে দেখে কামনাভাব জেগে উঠলেও মেয়েটি সুরক্ষিত থাকার তার ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারে না। পরবর্তীতে মানুষরূপি পশু অবুঝ মেয়েদের ওপর ঝাঁপিয়ে পরে। কেউ খোলামেলা নায়িকার হট আইটেম গান দেখে যৌন লালসা জেগে ওঠলেও হাতের কাছে ওই নায়িকাকে পাচ্ছেন না। পরবর্তীতে নিজের নাগালে যাকে পাচ্ছেন তাকে দিয়েই যৌনলালসা পূরণ করে থাকে। 

যারা বলেন, ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী নয়, নারীর চমড়া দায়ী নয়, ধর্ষকের মানসিকতা দায়ী; তাদের বলবো, আসলে মানসিকতা কখনো এমনি এমনি তৈরি হয়না। রূচি, মানবিকতা ও মানসিকতা তৈরি হয় পরিবেশ থেকে। বর্তমানে পরিবেশটা হলো, ফেইসবুকে ঢুকলে সেখানেও উলঙ্গ মেয়ের ছবি, ইন্টারনেটে ঢুকলে সেখানে উলঙ্গ মেয়ের ছবি, পর্নসাইট তো আছেই, রাস্তাঘাটে বের হলে সেখানেও মেয়েদের শরীর দেখানো পোশাক। এতকিছুর পরেও মানসিকতা স্বাভাবিক থাকবে কীভাবে? এ জন্য মানসিকতার দোষ দেওয়ার আগে সুন্দর মানসিকতা তৈরি হওয়ার মতো সুন্দর পরিবেশ তৈরি জরুরি। 

হ্যা, ধর্ষণ অবশ্যই জঘন্য অপরাধ! কিন্তু ধর্ষণের ক্ষুধাটা জন্ম হয় পরিবেশ ও পোশাক থেকেই। আর সে পোশাক ছোট মেয়েদের পোশাক নয় বরং যুবতী মেয়েদের পোশাক।

নেটফ্লিক্সের বিভিন্ন সিরিজে যেভাবে সেক্স সিন দেখানো হয়, যা যেকোনো উঠতি বয়সের কিশোরের যৌন চিন্তা ধারার বিকৃতিতে যথেষ্ট এবং লং টার্মে মানসিক করাপসন ঘটায়। এর বাইরে আছে, বিভিন্ন মুভিতে রেপ কালচার। এ রকম শত গল্পের পরে গড়ে উঠছে একজন ধর্ষক! অনায়াসেই কোনো পুরুষ ধর্ষক হয়ে উঠে না। এখন যদি বলা হয় পুরুষ এতো খারাপ? আমরা বলতে চাই, বিকৃতিটার উৎস কী? এহেন পরিবেশে কোনো গার্জিয়ান কীভাবে তার সন্তানকে কন্ট্রোল করবেন? 

যারা মনে করছেন কেবল পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই ধর্ষণ বন্ধের জন্য যথেষ্ট, তারা কি পৃথিবীতে এমন কোনো সমাজ দেখাতে পারবেন, যেখানে মেয়েদের খোলামেলা চলাফেরা সত্ত্বেও পুরুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, ফলে ধর্ষণ নেই বা নিয়ন্ত্রিত?

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, নব সংবাদ
[email protected]

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কাশবন,আগুন,অশ্লীলতা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close