কলকাতা প্রতিনিধি

  ২৮ অক্টোবর, ২০১৯

কলকাতায় শব্দবাজির বলি শিশুসহ ২

কালীপুজোর রাতে কলকাতায় শব্দবাজির বলি হয়েছে শিশুসহ দুইজন। রোববার সন্ধ্যায় হরিদেবপুরের বিদ্যাসাগর কলোনিতে তুবড়ি ফেটে মৃত্যু হয়েছে বছর পাঁচেকের এক শিশুর। অন্যদিকে, কসবা উত্তরপাড়ায় দীপকুমার কোলে নামে বছর ৪০-এর এক ব্যক্তি নিজের তৈরি তুবড়ি ফাটাতে গিয়ে মারা গিয়েছেন।

জানা গেছে, কালীপুজোর আলোয় শহর দেখতে ঠাকুরমার হাত ধরে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ বেহালার শীলপাড়ায় হাঁটছিল আদি দাস। রাস্তায় তুবড়ি ফাটানো হচ্ছিল। আচমকাই একটি তুবড়ি ফেটে খোলের একাংশ ছিটকে এসে লাগে তার গলায়। বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, আদিদের বাড়ি শীলপাড়াতেই। তুবড়ির খোলের টুকরোটি এসে গলায় লাগায় গুরুতর আহত হয় সে।

আত্মীয়স্বজন জানান, আদির গলায় ঢুকে যাওয়া তুবড়ির টুকরোটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বার করলেও শেষরক্ষা হয়নি। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল আদি।

অন্যদিকে কসবা উত্তরপাড়ায় দীপকুমার সন্ধ্যায় নিজেই তুবড়ি জ্বালাচ্ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। একটি তুবড়ি ফেটে যাওয়ায় খোলের একাংশ বিঁধে যায় তার গলায়। শুরু হয় রক্তক্ষরণ। শিশুমঙ্গল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। দীপবাবুরা তিন ভাই। দীপবাবু অবিবাহিত।

কালীপুজোর রাতে তুবড়ি ফেটে দুইজনের মৃত্যুর খবর শুনে রাতেই পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মার সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমন তুবড়ি কোথা থেকে আসছে, তা তৈরিতে গলদ-গাফিলতি থাকছে কি না, সেই সব বিষয়ে সবিস্তার তথ্য জোগাড় করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কসবা উত্তরপাড়ায় দীপকুমার দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ৪০-এর দীপ কোলেদের বাড়ি যান মেয়র-পারিষদ সুশান্ত ঘোষ। দীপবাবুর দুই দাদার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই দাদা। পুলিশের বক্তব্য, তুবড়ি নিষিদ্ধ বাজি নয়। কিন্তু অনেক সময়েই এই বাজির খোল ফেটে যায়। যদিও সেই খোল ফেটে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কথা সাম্প্রতিক কালে মহানগর বা অন্যত্র শোনা যায়নি। রাতে বেহালায় দেখা গেছে, বিভিন্ন গলি ও রাস্তায় দেদার বাজি ফাটানো চলছে। রাস্তায় রাস্তায় ফাটানো হচ্ছে তুবড়িও।

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
শব্দবাজি,কলকাতা,তুবড়ি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়