নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীতে ত্রিপলের নিচে ট্রাকভর্তি শ্রমিক আটক

গাজীপুর থেকে পণ্যবাহী ট্রাকে করে নীলফামারীতে আসা ৪৪ ইটভাটা শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে জেলার সৈয়দপুর উপজেলার সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের চৌমুহনী চেকপোস্টে তাদেরকে আটক করে বলে জানান সৈয়দপুর থানা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল।
পুলিশ জানায়, শ্রমিকরা একটি পণ্যবাহী ট্রাকে ত্রিপল ঢাকা অবস্থায় সেখানে পৌঁছে। গাজীপুর থেকে তারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মহাসড়ক হয়ে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ি হয়ে রংপুরের সঠিবাড়ি পর্যন্ত আসে। এরপর সঠিবাড়ি থেকে মহাসড়ক এড়িয়ে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর, ফুলবাড়ি ও পার্বতীপুর হয়ে সৈয়দপুরে ঢোকার চেষ্টাকালে থানা পুলিশের হাতে ওই চেকপোস্টে আটক হয়। পরে সৈয়দপুর থানা পুলিশ নীলফামারী সদর থানা পুলিশে হস্তান্তর করলে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল হাসানাত বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সৈয়দপুর উপজেলার প্রবেশ পথে থানা পুলিশের চৌমুহনী চেকপোস্টে একটি মালবাহী ট্রাকে ৪৪জন ভাটা শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। শ্রমিকদের ত্রিপল দিয়ে ঢেকে আনা হচ্ছিল। ট্রাকচালক প্রথমে বলেছিল তার ট্রাকে পণ্য রয়েছে। সন্দেহ হলে পুলিশ ত্রিপল সড়িয়ে ওই শ্রমিকদের আটক করে। সেখানে নীলফামারী সদরের বেশি শ্রমিক থাকায় পরে তাদেরকে নীলফামারী সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, সৈয়দপুর থানা পুলিশ যে ৪৪ জনকে আটক করেছেন তাদের মধ্যে জেলা সদরের ২৮জন, জলঢাকা উপজেলার ১জন, সৈয়দপুর উপজেলার ২ জন এবং দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার ১১জন এবং বীরগঞ্জ উপজেলার ২জন রয়েছেন। আটকদের দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহায়তায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের কারও শরীরেই উচ্চ তাপমাত্রা পাওয়া যায়নি। নীলফামারী সদর উপজেলার শ্রমিকদের জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের চকডুবুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলার শ্রমিকদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, ওই শ্রমিকরা গাজীপুরে ইটভাটায় কাজ করতেন। সেখানে কাজ বন্ধ, বেতন পাচ্ছেন না এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।









































