চাঁদপুর প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজস্ব জমি পেলো চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজস্ব জমি পেলো চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ। প্রকল্প এলাকার সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের প্রথম ধাপ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এরপর শুরু হবে বহুল প্রত্যাশিত হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণ।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-০৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ (এমপি মানিক)।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সরকারি নীতির অংশ হিসেবেই প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে।

জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা আইন অনুযায়ী শতভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে সরাসরি জেলা প্রশাসনের (ডিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

এমপি মানিক বলেন, চাঁদপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ বাস্তবায়িত হলে শুধু জেলার মানুষই নয়, আশপাশের একাধিক জেলার বাসিন্দারাও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন। এতে রাজধানীমুখী রোগীর চাপও অনেকাংশে কমবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ।

তিনি বলেন, সদর উপজেলার ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় প্রায় ৩০ দশমিক ২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে এবং বর্তমানে জমির মালিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজের ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর স্থানীয় প্রশাসন গাছতলা ব্রিজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় জমি পরিদর্শন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৩০ দশমিক ১২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠায়। প্রস্তাবিত জমির মধ্যে দুই দশমিক ৫৮ একর ছিল খাসজমি এবং ২৭ দশমিক ৫৪ একর ছিল ব্যক্তিমালিকানাধীন। পরবর্তীতে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়।

২০১৮ সালে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় শুরু থেকেই আড়াইশ' শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির দুটি ব্যাচ এমবিবিএস সম্পন্ন করে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ড্যাব চাঁদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সৈয়দ আহমেদ কাজল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শায়লা শারমিন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম উদ্দিন টিটু, আড়াইশ' শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিউল হিকমা প্রমুখ।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়