রংপুর ব্যুরো
দরিদ্রতা বিমোচনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রংপুর নগরীসহ সারাদেশের প্রত্যেক উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাউকে কোথাও যেতে হবে না উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।
সরকারের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে উপকারভোগী হতে হলে কিছু মানদণ্ড রয়েছে। উপকারভোগীদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে প্রথমে জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য কম্পিউটার যাচাই করে নির্ধারণ করবে কারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন।
আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রংপুর নগরীসহ সারাদেশের প্রত্যেক উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চালু হবে। প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক হিসেব মতে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬ ভাগ প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে। দেশে প্রায় ৪৫ লাখ নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী রয়েছে। সেই প্রতিবন্ধীদের সাপোর্ট করাসহ জনসম্পদে পরিণত করতে কাজ করা হচ্ছে।
সারাদেশে ৪৫টি মোবাইল থেরাপি ইউনিট প্রতিবন্ধীদের জন্য এলাকায় গিয়ে কাজ করছে। আগামীতে এর কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হবে।
শনিবার দুপুরে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় মিলনায়তনে রংপুর বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিটি সেবা কার্যক্রমে এখন আর কোনো নগদ অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা নেই। সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের টাকাও উপকারভোগী সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে পাচ্ছেন। মধ্যস্বত্ত্বভোগী না থাকায় উপকারভোগীরা স্বস্তিতে রয়েছেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্সনীতি গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয়ের কেউ যেন দুর্নীতিতে না জড়ায় সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারণ দিনশেষে জনপ্রতিনিধিকে জনগণের কাছে এবং সরকারকে সংসদে জবাবদিহি করতে হয়। তাই দুর্নীতি করলে কেউ ক্ষমা পাবে না। বিগত দিনের দুর্নীতি নিয়ে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন,দেশে মোট ২ হাজার ৬০০টি প্রতিবন্ধী স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টি নিবন্ধিত এবং ৭৫টি এমপিওভুক্ত। এছাড়া চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সারাদেশের ১ হাজার ৭০০টি স্কুল পরিদর্শন করা হয়েছে। আমরা সহসাই দেশের প্রত্যেক জেলায় একটি করে স্টান্ডার্ড প্রতিবন্ধী স্কুল এবং উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল স্থাপন নিয়ে কাজ করছি। সামাজিক নিরাপত্তা খাত নিয়ে তিনি বলেন, দরিদ্রতা বিমোচনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেলাই, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, হাঁস-মুরগি লালন-পালন, প্লাম্বিং, মোবাইল মেরামতসহ নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
এছাড়া উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্যে বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিনা সুদে প্রশিক্ষিতদের ঋণ প্রদান করছে। প্রতিটি মানুষকে সমাজের মূল স্রোতধারায় আনতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা সংস্থা এবং প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব ছিল। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, এক সময় এমন নির্বাচন হয়েছে যেখানে ভোটার উপস্থিত না থাকলেও ভোট সম্পন্ন হয়েছে। রাতে ভোট হয়েছে, কোথাও প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না, আবার কোথাও ডামি নির্বাচন হয়েছে। ফলে জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা ছিল কিছু কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি, জনগণের প্রতি নয়।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা ও সদস্য লিটন পারভেজসহ অন্যরা। পরে মন্ত্রী লালমনিরহাটে আলোকিত লালমনিরহাট কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দেন।









































