সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিংগাইরে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় বাড়িঘর ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ৮

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী মারিয়া আক্তারের (১৪) দ্বি-খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আলিফকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় প্রধান আসামিসহ দুই শিক্ষক ও মোট আটজনকে গ্রেপ্তারর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জেরে সোমবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আলিফের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।
গ্রেপ্তাররকৃত আসামিরা হলেন- ১. আলিফ (১৬) — প্রধান অভিযুক্ত, ২. মাসুদ (৩৫), ৩. সুজন (৩০), ৪. রাসেল (৩০), ৫. রুমা (৪৫) — আলিফের মা, ৬. মিম (২২) — আলিফের বোন, ৭. সিরাজুল ইসলাম (৫৯) — সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ৮. মো. ইয়াকুব মোল্লা (২৯) — একই বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক ও দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার প্রতিনিধি।
ঘটনার বিবরণ ও লাশ উদ্ধার : মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জার্মিত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর কবরস্থানের পাশের একটি নির্জন বাগান থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী মারিয়ার খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতা মারিয়া উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের কন্যা। লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে তার স্কুল ড্রেস ও ব্যাগও পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পটভূমি ও নিখোঁজের সূত্রপাত : স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ জুন উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে টিফিন চলাকালীন দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি অনৈতিক কার্যকলাপের ঘটনা ঘটে, যা ক্লাসরুমের সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ হয়। গত ১৩ জুন বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নজরে আসে। এরই প্রেক্ষিতে, ১৫ জুন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনে স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেন এবং তাদের টিসি (ছাড়পত্র) দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেন।
অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মারিয়া ওইদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন এবং ১৫ জুন থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। রাতে সে বাড়ি না ফেরায় পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করে। কোনো সন্ধান না পেয়ে পরের দিন মারিয়ার অভিভাবক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দ্বারস্থ হন এবং পরবর্তীতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি/অভিযোগ করেন। নিখোঁজের ৭ দিন পর রবিবার (২০ জুন) স্থানীয়রা চন্দননগর গ্রামের কবরস্থানের পাশে বজলুর রহমানের বাগানে তার দ্বি-খণ্ডিত লাশ দেখতে পায়।
পুলিশের বক্তব্য : সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। প্রধান আসামিসহ এজাহারনামীয় ৮ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারর করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিডিএস/এমএইউ









































