দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রবাসীর টাকায় গড়া ঘরে তালা লাগিয়ে পুত্রবধূকে উচ্ছেদের অভিযোগ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়ন সাইলাবাড়ি গ্রামে সৌদি প্রবাসীর উপার্জিত অর্থে নির্মিত বসতঘর থেকে তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া, ঘরের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর ও সৎ শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছা. শারমিন বেগম দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়ন সাইলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোছা. শারমিন বেগমের স্বামী মো. টিও হোসেন ইলিয়াস বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। পারিবারিক বিরোধের জেরে তার শ্বশুর মো. আবু বক্কর ও সৎ শাশুড়ি ডালি বেগম দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে শারমিন বেগম জানান, তার স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজ বসতভিটায় একটি পাকা চৌচালা ঘর নির্মাণ করেন। এর আগে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে তার শ্বশুর প্রায় পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। সম্প্রতি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য আরও চার লাখ টাকা দাবি করা হয়। তবে তার স্বামী ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এরই জেরে গত ৬ জুন শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার শ্বশুর ও সৎ শাশুড়ি ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ঘর থেকে প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি চেক বই, আসবাবপত্র এবং ট্যাংকে রাখা নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে বসতঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয় এবং ঘরে তালা ঝুলিয়ে দখল করে নেয় অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে চুরি হওয়া মালামাল ফেরত চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সৌদি প্রবাসী মো. ইলিয়াসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে আমার পরিবারকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করেছি। সেই উপার্জনের টাকা দিয়ে নিজ বসতভিটায় একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছি, যাতে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা নিরাপদে বসবাস করতে পারে। কিন্তু নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আমার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং ঘরে তালা লাগিয়ে দখল করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমি বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করায় বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।
মো. ইলিয়াস হোসেনের ছোট বোন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ভাই প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঘরটি নির্মাণ করেন। তবে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁদের বাবা ও সৎ মা নানা ধরনের নির্যাতন ও চাপ প্রয়োগ করে তাঁর ভাবিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আবু বক্করের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘর ও জায়গা নিয়ে আমাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। যে ঘর নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটির বিষয়ে আমার নিজস্ব দাবি রয়েছে। আমার বিশ্বাস, ওই ঘরে থাকার অধিকার তাদের নেই। সে কারণেই আমি ঘরটি তালাবদ্ধ করেছি। আমার বিরুদ্ধে যে চুরি, দখল বা হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। আমি আইনগতভাবেই বিষয়টির সমাধান চাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাস।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পিডিএস/এমএইউ









































