কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

  ১৯ জুলাই, ২০২১

ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণ

কমলগঞ্জে করোনায় নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু

ফাইল ছবি

গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে করোনা শনাক্ত হয়ে ৪ জন মারা গেছেন। তবে কমলগঞ্জে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণ। ঘরে ঘরে করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা চলছে। বাসার ভিতরে যে কোন একটি রুমে আইসোয়েল্যেসন রুম বানানি সেখানে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ি চিকিৎসা নিচ্ছেন করোনা আক্রান্ত রোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯দিন আগে শমশেরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল কাইয়ূম করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। ৯দিন পর সোমবার সকালে তার বড় ভাই দলিল লিখক আলাউদ্দীন (৪৫) করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। 

তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, সর্দি কাশি ও জ্বরে ভোগলেও রোববার বৃষ্টিতে ভিজলে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তাকে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৯ জুলাই সোমবার ভোরে তিনি মারা যান।

করোনা সংক্রমিত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার সকালে আদমপুরের পূর্ব জালালপুর গ্রামের হারুন-অর রশীদ মারা যান। গত ১৬ জুলাই নমুনা দিয়ে করোনা শনাক্ত হয়ে সোমবার ভোরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় মারা গেছেন মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল কুরাইয়া (৪৫)।

করোনা শনাক্ত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে মারা গেছেন আলীনগর ইউনিয়নের যোগিবিল গ্রামের আমেনা বেগম (৬৫)। করোনার উপসর্গ নিয়ে তাকে দেখতে এসে তার বড় বোন (৭০) বোনের বাড়িতেই মারা গেছেন।

আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে আমেনা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনার উপসর্গ নিয়ে তাকে দেখতে এসে তারই বড় বোন মারা গেছেন। সোমবার বিকেলে দুই বোনের নামাজে জানাজা এক সাথে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে ও প্রাইভেট ফিজিশিয়ানদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সর্বত্রই ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, জ্বর ও মাথা ব্যথা রোগী রয়েছেন। তা করোনার উপসর্গ দাবি করে চিকিৎসকরা বলেন, এদের নমুনা পরীক্ষা করলে করোনা পজিটিভ হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘৫ জন মারা যাওয়ার কথা শুনেছেন। তবে এদের মাঝে ২ জন এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়ে কোরনা শনাক্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাকি ৩ জন করোনার নমুনা এখানে দেননি। অন্যত্র দিলেও দিতে পারেন। 

তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন, কমলগঞ্জের সর্বত্রই করোনা উপসর্গ্রের রোগী রয়েছেন। মানুষজন মানছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা। এতে করে কমলগঞ্জের অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে।’

পিডিএসও/এসএম শামীম

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
করোনা,কমলগঞ্জ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close