শাহজাহান সাজু

  ১৮ আগস্ট, ২০২০

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকীতে গুরুত্ব পাচ্ছে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় দুটি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর একটি ত্বরান্বিত সমৃদ্ধি এবং অন্যটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি। প্রবৃদ্ধির সুবিধাগুলো সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছানোর জন্যই এই পরিকল্পনা। এজন্য ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ স্লোগান সামনে রেখে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং অঞ্চলকে চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে প্রাথমিক উত্তরণের ভিত্তি স্থাপন করেছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ২০২৪ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য সহায়ক হবে। এ পরিকল্পনায় দুটি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে, যথা-ত্বরান্বিত সমৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি। প্রবৃদ্ধির সুবিধাগুলো যাতে সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছানো যায় এ পরিকল্পনা সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রকৃতপক্ষে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নে পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা ২০২০ থেকে ২০৪১ এবং সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসরণ করা হবে।

দেশের অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ সংকটের গুরুত্ব এবং প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার জন্য এরই মধ্যে প্রস্তুতকৃত মূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়নে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন একটি স্টাডি সম্পন্ন করছে; ওই স্টাডির ফলগুলো অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হবে। স্টাডিতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংকটের ফলে দারিদ্র্য হ্রাস কার্যক্রম এবং প্রবৃদ্ধি কীরূপ প্রভাবিত হবে তা বিশেষ গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, গত এক দশকের অর্থনৈতিক সাফল্যের ওপর ভর করে সরকার দারিদ্র্যমুক্ত দেশ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে রূপকল্প-২০৪১ প্রণয়ন করে। রূপকল্প-২০৪১ কে নীতিমালা এবং কর্মসূচিসহ একটি উন্নয়ন কৌশলে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে পরবর্তী ‘দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১’ প্রণয়ন করা হয়েছে যা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুমোদিত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার ভিত্তিমূলে রয়েছে দুটি লক্ষ্য। এর একটি হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ যেখানে বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ ডলারেরও বেশি এবং সোনার বাংলায় দারিদ্র্য হবে সুদূর অতীতের কোনো বিষয়।

জানা যায়, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও সরকারের দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাশাপাশি রোহিঙ্গা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মিয়ানমার আন্তরিক হবে বলে আশাবাদ জানানো হয়। গত ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) মূল অধিবেশনে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে এ সহায়তা চেয়েছে সরকার। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী,প্রবৃদ্ধি,উন্নয়ন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়