reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১১ আগস্ট, ২০১৬

বছরে দেশী রসুনের দাম বেড়েছে ১১৪ শতাংশ

রাজধানীর বাজারে এক বছরের ব্যবধানে দেশী রসুনের দাম বেড়েছে ১১৪ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। আর রাজধানীর পাইকারি বাজারে এক মাসের ব্যবধানে রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোয় দেশী রসুন লেনদেন হয় প্রতি কেজি ১৪৫-১৫৫ টাকায়। আর এক বছর আগে যা ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ এ সময়ের ব্যবধানে খুচরায় পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ১১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। এছাড়া এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশী রসুনের দাম ছিল ১২০-১৪০ টাকা। এক মাস আগে ছিল ১০০-১৩০ টাকা।

অন্যদিকে রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের মেসার্স সুরমা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী ঝুটন চন্দ্র সাহা জানান, গত তিন-চারদিনের ব্যবধানে বাজারে রসুনের দাম অনেকটা বেড়েছে। তিন-চারদিন আগে দেশী রসুনের দাম ছিল প্রতি কেজি ১৩০-১৩৫ টাকা। গতকাল তা বিক্রয় হয়েছে ১৫০ টাকায়। এ বাজারে এক মাস আগে প্রতি কেজি দেশী রসুন বিক্রি হয়েছিল ১০০ টাকা। আর ওই সময় একই পরিমাণ চীনা রসুন বিক্রি হয়েছিল ১২৫-১৩০ টাকায়, যা গতকাল লেনদেন হয় ১৫৮ টাকায়।

রসুন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তিন-চার মাস আগে বাজারে আমদানিকৃত রসুনের দাম বেশি ছিল। ওই সময় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জমি থেকে সংগ্রহের পর পরই কাঁচা রসুন ভালো দামে বিক্রি করেছেন। কিন্তু বর্তমানে দেশী রসুনের মজুদ তেমন একটা না থাকায় দাম বাড়ছে। এছাড়া সামনে কোরবানি ঈদ। এ উপলক্ষে অন্যান্য মসলার ন্যায় রসুনের চাহিদা বেড়ে যায়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা দেছে, কয়েক মাস আগেও চীনা ও দেশী রসুনের দামে ব্যাপক পার্থক্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে ব্যবধান নেই বললেই চলে। সে সময় রাজধানীর পাইকারি বাজারে মানভেদে দেশী রসুন বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকায়। আর চীনা রসুন ছিল ১৮০ টাকা। খুচরা বাজারে তা ২০-৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি রসুন উৎপাদন হয় নাটোর জেলায়। এছাড়া রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুর জেলায় ব্যাপকভাবে রসুন আবাদ হচ্ছে। আবাদ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন রসুন আবাদে উত্সাহী হচ্ছেন। বাজারে বর্তমানে একদানার বড় রসুন পাওয়া যাচ্ছে, যা সহজে ব্যবহারযোগ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একশ্রেণীর হোটেল-রেস্তোরাঁ ও অভিজাত এলাকার বাসিন্দাদের পছন্দ মোটা দানার রসুন। এ কারণে চীনা রসুনের চাহিদা রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পূর্বাভাস সেল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০১০ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী দেশে বছরে মোট রসুনের চাহিদা রয়েছে ৫ লাখ

টন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রসুন উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার টনে। অবশিষ্ট চাহিদা পূরণ হয় চীন থেকে আমদানির মাধ্যমে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
দেশী রসুন,দাম
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist