প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ৯ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত ইরানের

ইরানে ফের হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতে পারস্য উপসাগর এলাকায় একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে ইরান। সেই হামলার জবাবে দেশটিতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী। মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর আশপাশে বেশ কয়েকটি ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা এবং রাডার সিস্টেমে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোয় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি লক্ষ করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিত একটি বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি। এদিকে ইরানে হামলার পর দেশটির নেতাদের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, তারা শুধু কথাই বলে। তাদের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি বিশৃঙ্খলার মধ্যে আছে। নৌ ও বিমানবাহিনীও হেরে গেছে। ইরান চুক্তি করতে দেরি করে ফেলেছে, সেই মূল্য তাদের দিতে হবে। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়, আইআরজিসির ভাষ্য- যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। ইরান এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি লক্ষ করে ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। তবে ওই হামলায় ঠিক কতটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কোনো ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী (অ্যারোস্পেস ফোর্স) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটির দিকে দূরপাল্লার কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক সদস্যরা অবস্থান করছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। যদিও এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসি আরো জানায়, জর্ডানের ওই হামলা ছিল একটি বৃহত্তর প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ। তাদের দাবি অনুযায়ী, এ অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর ঘাঁটিগুলোর মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবের কথা জানিয়েছে। কুয়েতি সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘শত্রুভাবাপন্ন মহাকাশীয় লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করছে। একইসঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং শুধু অনুমোদিত সরকারি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়া নিশ্চিত করেছে যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়