আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
অটোরিকশাচালক হত্যা
এক মাসেও জানা যায়নি রহস্য আতঙ্কে বাড়িছাড়া পরিবার

গাজীপুরের শ্রীপুরে মেহেদী হাসান আসিফ (২২) নামে এক অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। এতে হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহতের পরিবার। নিহতের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে থাকতে পারচ্ছেন না ভয়ে।
গত ১৪ মে সকালে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডুয়াইবাড়ী এলাকার গজারি বনসংলগ্ন স্থান থেকে আসিফের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নিহত মেহেদী হাসান আসিফ বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদের ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে শ্রীপুর উপজেলার ডুয়াইবাড়ী গ্রামে তার নানা মৃত নুরুল ইসলামের বাড়িতে বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে তিনি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আসিফের মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তার মা আসমা আক্তার সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। মা পোশাক কারখানায় ও ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
নিহতের মামা সাব্বির জানান, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি ও আসিফ একসঙ্গে রাজাবাড়ী বাজারে ছিলেন। পরে তিনি বাড়ি ফিরে এলেও আসিফ বাজারেই অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, আসিফ একটি রিজার্ভ ভাড়ায় কোথাও গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাত গভীর হলেও আসিফ বাড়িতে না ফেরায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রাত দেড়টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশে তার অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গজারি বনের পাশে তার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখি।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এবং হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে। এদিকে ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যার কোনো রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। এখনো শনাক্ত হয়নি হত্যাকারীরা। কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। নিহতের পরিবারের দাবি, দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নিহতের মা আসমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এতদিন পার হলেও পুলিশ কাউকে ধরতে পারেনি। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে।
তিনি আরো দাবি করেন, গত রাতেও আমাদের বাড়িতে কে বা কারা হামলার চেষ্টা করেছে। গভীর রাতে বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনক লোকজন ঘোরাঘুরি করেছে। আমরা আতঙ্কে রাত কাটিয়েছি। পুলিশকে বারবার জানিয়েও তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। আসমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো আমরা ভয়ভীতির মধ্যে আছি। পুলিশ যদি শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করত, তাহলে হয়তো হত্যাকারীরা এতদিন বাইরে ঘুরে বেড়াতে পারত না। আমরা এখন নিজেদের জীবন নিয়েও শঙ্কিত।
তবে দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হোক- যাতে পরিবার ন্যায়বিচার পায় এবং এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। গাজীপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আশফাক উজ্জামান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার পেছনের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
"








































