আপেল মাহমুদ, মান্দা (নওগাঁ)

  ২০ ঘণ্টা আগে

নওগাঁর মান্দা উপজেলা

পাউবোর জমিতে আবারও ঘর নির্মাণ, জনমনে প্রশ্ন

আইন অমান্য করে টিনের বেড়ার আড়ালে তৈরি হচ্ছে ঘর, প্রশাসন নীরব

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উচ্ছেদ নোটিশ ও কঠোর নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সরকারি জায়গায় ঈদের ছুটিতে পুনরায় ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করার অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এসে আগের অবৈধ স্থাপনার কিছু অংশ ভেঙে দেওয়ার পর, আইন অমান্য করে অভিনব কায়দায় আবারও সেখানে কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলার নূরুল্লাবাদ ইউনিয়নের জোতবাজার ব্রিজের কোলঘেঁষে এই অবৈধ নির্মাণকাজ চলায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে পাউবোর নজরদারি ও ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশিষ্ট দপ্তরের চিঠির সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই, ফকিরনী ও শিব নদীর বন্যার পানি থেকে মান্দা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষার্থে ‘চলনবিল প্রকল্প পোদ্দার-ডি’-এর আওতায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। সম্প্রতি নূরুল্লাবাদ মৌজার জোতবাজার (ব্রিজ সংলগ্ন) এলাকায় পাউবোর অধিগ্রহণকৃত সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে অবকাঠামো নির্মাণের দায়ে স্থানীয় মৃত সমতুল্যার ছেলে মো. আবদুর রহিমকে একটি চূড়ান্ত নোটিশ দেয় নওগাঁ পওর (পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) বিভাগ।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা স্বউদ্যোগে অপসারণের জন্য ৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, অন্যথায় ফৌজদারি মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। নোটিশের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এসে আগের অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই উচ্ছেদ আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবদুর রহিম পুনরায় সেখানে টিনের আড়ালে ঘর তোলার কাজ শুরু করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইরে থেকে যেন কেউ কিছু বুঝতে না পারে, সেজন্য চারপাশ টিন দিয়ে ঘিরে এক অভিনব কায়দায় ভেতরে দ্রুত গতিতে কংক্রিটের পিলার ও বাঁশের চাল দিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতেই এই চতুরতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও উচ্ছেদ আদেশের পর প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এভাবে টিনের আড়ালে পুনরায় বাঁধের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ‘একবার এসে ভেঙে দেওয়ার পর আবার কীভাবে একই জায়গায় ঘর তোলা হয়? বাইরে টিন দিয়ে ঘিরে ভেতরে কাজ করছে যেন বাইর থেকে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কি এগুলো দেখেন না? তাদের দুর্বল নজরদারির কারণেই দখলদাররা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস পাচ্ছে।’

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এভাবে বার বার অবৈধ দখল চলায় বাঁধের স্থায়িত্ব যেমন হুমকিতে পড়ছে, তেমনি বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কাউকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ও উচ্ছেদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা চতুরতার আশ্রয় নিয়ে পুনরায় অবৈধ দখলদারিত্ব শুরু করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়