মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

মামলা তুলে না নেওয়ায় বিধবা নারীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদী এক বিধবা নারীকে মামলা তুলে না নেওয়ায় পানিতে চুবিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও ১০ দিনেও মামলা গ্রহণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। ঘটনাটি উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামে ঘটেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত কাছুম আলীর স্ত্রী মোছা. হাছনা আক্তার একই গ্রামের মৃত জাহেদ মুন্সির ছেলে জমশেদ আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১১ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত পক্ষ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পেছনে রান্নার কাজ করার সময় জমশেদ আলীসহ ৩-৪ জন ব্যক্তি তার রান্নাঘরে প্রবেশ করে। পরে তার হাত-মুখ বেঁধে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং একপর্যায়ে বাড়ির পেছনের ডোবায় নিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন।

পরে তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা তার একটি স্বর্ণের চেইন ও একজোড়া কানের দুল নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী না হলেও উদ্ধারকারী হোসাইন মিয়া বলেন, “রাতে একজন নারীর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে যাই। পরে অন্যদের ডেকে এনে তাকে অচেতন অবস্থায় পানি থেকে উদ্ধার করি। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমি দেখিনি।”

ভুক্তভোগীর ছেলে সবল মিয়া বলেন, “মামলা করার পর থেকেই আমাদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো মামলা হয়নি। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জমশেদ আলী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমি কখনো চাপ দিইনি।”

জমশেদ আলীর স্বজন চম্পা আক্তার দাবি করেন, ঘটনার সময় জমশেদ আলী তার সঙ্গে ছিলেন।

ভুক্তভোগী হাছনা আক্তার বলেন, “আমি আগেও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছি। এখন আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা হচ্ছে না। আমি সঠিক বিচার চাই।”

ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রহিছ মিয়া বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।”

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই খোরশেদ বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

মদন থানার ওসি (তদন্ত) অসীম কুমার দাস বলেন, “আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগের তথ্য নেই। বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে।”

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়