মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন মিলছে মোহনগঞ্জ হাসপাতালে, জনমনে স্বস্তি

দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় ‘জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট, রোগীর ভোগান্তি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় জলাতঙ্ক রাবিক্স-ভিসি ভ্যাকসিন সরবরাহ ও প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উদ্যোগে এই কার্যক্রম চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট, রোগীদের ভোগান্তি। সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে ভ্যাকসিন না থাকায় কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আহত রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এতে করে জনমনে আতঙ্ক ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অবশেষে স্বাস্থ্য কর্তকর্তা সরকারি উদ্যোগী হয়ে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে সরবরাহ নিশ্চিত করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তহবিল থেকে প্রাথমিকভাবে ৫০ ডোজ জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন ও ২০টি এন্টি ভেনাম সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে শুধু জলাতঙ্ক নয়, সাপের কামড়ের মতো জরুরি চিকিৎসা সেবাতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
রবিবার (০৭ জুন) সকাল থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন নিতে রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় ছিলেন। কেউ কেউ এর আগে বাধ্য হয়ে মোহনগঞ্জ শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ফার্মেসিতে অতিরিক্ত খরচে টিকা নিয়েছেন, আবার অনেকেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা নিতে পারেনি।
ভ্যাকসিন নিতে আসা অভিভাবক মো. খোকন মিয়া বলেন, আমার সন্তানকে কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন পাইনি। খুব আতঙ্কে ছিলাম। আজ টিকা দিতে পেরে অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।
আরেক ভুক্তভোগী হেলেনা আক্তার বলেন, জলাতঙ্ক যে কতটা ভয়ংকর রোগ, তা আমরা জানি। এতদিন ভ্যাকসিন না থাকায় আমরা ঝুঁকির মধ্যে ছিলাম। এখন অন্তত চিকিৎসা পাচ্ছি, সেটাই বড় কথা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল, যা আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে এই প্রথম ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ৫০ ডোজ জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন ও ২০টি এন্টি ভেনাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী তা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সংকট না হয়, সে লক্ষ্যে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ হলেও এটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য—যদি সময়মতো ভ্যাকসিন নেওয়া যায়। সাধারণত পশুর কামড়ের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ভ্যাকসিনের অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবা থেকে মানুষ বঞ্চিত ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ফলে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে তারা স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিতে বলেছেন। নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আবারও একই সংকট দেখা দিতে পারে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পিডিএস/এমএইউ









































