রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারি

অস্ত্র মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে অভিযুক্ত করে অস্ত্র মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শায়রুল এই চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটের বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, অস্ত্র মামলায় সাজা নিশ্চিত করতে যে ধরনের তথ্য প্রমাণ দরকার হয়, আমরা সবকিছুর সত্যতা নিশ্চিত করেছি এবং তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এখন আদালত বিচার করে এর রায় দেবেন। একটি অস্ত্র মামলার তদন্ত শেষ করেছি। ১৬৪ ধারায় দুই সাক্ষীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। সাহেদ যখন আমাদের কাছে রিমান্ডে ছিলেন তখন তার ভাষ্য মতে তার ব্যবহার করা গাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্রটি জব্দ করা হয়। সেই অস্ত্র মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হচ্ছে।

আবদুল বাতেন বলেন, অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে ১৫ দিনে চার্জশিট দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা সেটাই করেছি। অস্ত্র পজিশনে পাওয়া গেলে সেটা দ-নীয় অপরাধ, সেটা তিনি যদি অস্ত্র ব্যবহার নাও করে থাকেন। ব্যালাস্টিক অস্ত্র প্রমাণ করার কোনো উপাদান সেখানে ছিল না। অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে আইন এটাই বলে যে পজিশন এবং নলেজ এ দুটি যদি আপনি নিশ্চিত করতে পারেন, কোনো ব্যক্তি অস্ত্র পজিশন রেখেছেন এবং তার নলেজে ছিল। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয় সাহেদকে। পরদিন করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্টসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডে থাকা সাহেদকে নিয়ে ১৮ জুলাই রাতে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। এদিকে, প্রথম দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৬ জুলাই আরো পৃথক চার মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলায় সাহেদকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে গত ৬ জুলাই সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুরের দুই শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা টেস্টের রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। ওই দিনই রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখাকেই সিলগালা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর সন্ধ্যায় হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

 

"