মাসুম বিল্লাহ, শালিখা (মাগুরা)
মাগুরার শালিখা
আঙুর চাষে আলোড়ন প্রবাস ফেরত মজিদের

একসময় যে আঙুরকে বিদেশি ফল হিসেবেই জানতেন এলাকার মানুষ, সেই আঙুরই এখন ঝুলছে গাছে গাছে। থোকায় থোকায় লাল, সবুজাভ ও কালো রঙের আঙুরে ভরে উঠেছে বাগান। দেশের মাটিতে বিদেশি এই ফলের সফল চাষ করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের প্রবাসফেরত কৃষি উদ্যোক্তা আবদুুল মজিদ শেখ। তার আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, আবার অনেকে সরাসরি বাগান থেকে আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে বাগানটি এখন এক ধরনের দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী আবদুল মজিদ শেখ ২০২৫ সালে শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করেন। শতখালী-রজকিনী চণ্ডীদাস সড়কের পাশে প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে তিনি গড়ে তোলেন আঙুরের বাগান। শুরুতে চারটি আঙুরের চারা রোপণ করলেও দুটি জাতের গাছে তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পান। বর্তমানে তার বাগানে বিভিন্ন জাতের আঙুরের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইগোনর, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক এম্পায়ার, ভেলেজ, রিকসন, একোলো, গ্রিন লং এবং জ্যোতি ব্ল্যাক সিডলেস জাতের আঙুর।
আবদুল মজিদ বলেন, আমি মালয়েশিয়া থাকাকালীন আমার পাশের কয়েকটি জমিতে চায়নিজরা আঙুর চাষ করতেন। আমি সেখান থেকে একটি গাছ নিয়ে রোপণ করে সফল হই। তাই দেশে আসার সময় কয়েকটি চারা নিয়ে আসি এবং আমার বাড়ির আঙিনায় রোপণ করি। তারপর যশোর, দর্শনা, রাজশাহী ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করি। বিশেষ করে জ্যোতি ব্ল্যাক সিডলেস জাতটি আমার বাগানে ভালো ফলন দিয়েছে। আঙুর চাষে নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে মাত্র ৯ থেকে ১০ মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। তিনি বলেন, প্রথমে অনেকেই সন্দেহ করতেন আমাদের এলাকায় আঙুর হবে কি না। কিন্তু এখন ফলন দেখে সবাই অবাক হচ্ছেন। এ বছর প্রায় ১৫ মণ আঙুর উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ মণ বিক্রি করেছি। স্থানীয় বাজারে এবং বাগান থেকেই ক্রেতারা আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
মজিদ আরো বলেন, আমার অর্থের প্রয়োজন নেই। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি পরামর্শ ও যান্ত্রিক সহায়তা পেলে আঙুর চাষ আরো সম্প্রসারণ করতে পারব। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
আঙুরের পাশাপাশি মজিদ তার বাগানে ছোট পরিসরে বেদানা, আপেল, কাঠিমন আম ও চায়না-থ্রি জাতের ফলের চারাও তৈরি করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে বই-পত্র কিংবা বাজারে আমদানি করা আঙুরই দেখা যেত। এখন নিজ এলাকার মাটিতে আঙুর ফলতে দেখে তারা বিস্মিত ও আনন্দিত। অনেকেই মজিদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন করে আঙুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসনাত বলেন, ‘আঙুর একটি বিদেশি ফল হলেও বর্তমানে শালিখার বিভিন্ন এলাকায় এর চাষাবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং অনেক কৃষক সফলতা পাচ্ছেন। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে। বর্তমানে উপজেলায় দুই বিঘারও বেশি জমিতে আঙুর চাষ হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে আঙুর চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
প্রচলিত কৃষির বাইরে এসে বিদেশি ফল আঙুর চাষে সাফল্য অর্জন করে আবদুল মজিদ শেখ শুধু নিজের স্বপ্নই বাস্তবায়ন করেননি বরং শালিখার কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তও উন্মোচন করেছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
"







































