হেলাল উদ্দিন, বাগমারা (রাজশাহী)
রাজশাহীর বাগমারা
পুকুর-দীঘি সংস্কারের অভাবে উৎপাদনহীন

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুরাতন পুকুর ও দিঘিগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মাছ চাষ ও কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া, পুকুরের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া এবং পাড় ভেঙে পড়ার কারণে স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় পুকুরগুলো সংস্কারের অনুমতি চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি উপজেলার সোনাবিলা (উত্তর একডালা), মাড়িয়া ইউনিয়ন, ভবানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা পৃথক আবেদনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পুকুর সংস্কারের অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। তাদের দাবি, বছরের পর বছর পলি জমে অধিকাংশ পুকুরের গভীরতা কমে গেছে। ফলে বর্ষার পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না এবং মাছ চাষেও কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলছে না।
সরেজমিনে কয়েকটি পুকুর ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘ খরা ও অপর্যাপ্ত গভীরতার কারণে অনেক পুকুরে পানি প্রায় শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পুকুরের তলদেশ ফেটে চৌচির হয়ে রয়েছে, জন্ম নিয়েছে আগাছা। ফলে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন স্থানীয় মৎস্যচাষিরা।
মাড়িয়া ইউনিয়নের একটি পুকুরপাড়ে প্রায় আট হাজার লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে। খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, পুকুরপাড় ভেঙে যাওয়ার কারণে খামার পরিচালনায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত পাড় সংস্কার না করা হলে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আবেদনকারী জহুরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমান বলেন, এসব পুকুর একসময় এলাকার মাছ উৎপাদন ও কৃষিকাজের গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন সেগুলোর অনেকটিই কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। তারা বলেন, পুকুরগুলো পুনর্খনন করা হলে মাছের উৎপাদন বাড়বে, কৃষকরা সেচের সুবিধা পাবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, সরকারি অনুমতি পেলে তারা নিজ উদ্যোগে পুকুরগুলো খনন ও সংস্কার করতে প্রস্তুত। এতে এলাকার অব্যবহৃত জলাশয়গুলো আবারও উৎপাদনমুখী সম্পদে পরিণত হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
সচেতন মহলের মতে, পুরাতন পুকুর ও দিঘিগুলো শুধু জলাধার নয়, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব জলাশয় সংস্কার করা গেলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, পুকুর সংস্কারের বিষয়ে প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন মিললে দীর্ঘদিনের অবহেলায় উৎপাদনক্ষমতা হারানো পুকুর ও দিঘিগুলো আবারও মাছ চাষ, কৃষিকাজ ও স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।
"






































