শামীম রেজা ডাফরুল, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ
ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের ভোগান্তি চরমে

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে মানুষ যখন আবার কর্মস্থলের দিকে যাত্রা শুরু করেছে, তখন সেই ফেরা হয়ে উঠেছে চরম কষ্টের। পরিবারের সঙ্গে কাটানো সেই মধুর মুহূর্তগুলো ম্লান হয়ে যায় পথে পথে ভোগান্তির বাস্তবতায়। ঢাকা ফেরা যেন এক দীর্ঘ সংগ্রাম, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপেই পোহাতে হয় অমানবিক দুর্ভোগ। অনিয়ম ও ভাড়া নৈরাজ্য ঢাকা ফেরার পথে যাত্রীদের সবচেয়ে বড় ভয়ের নাম বাসের বাড়তি ভাড়া। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে অনেক পরিবহন কোম্পানি যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ, এমনকি তার চেয়েও বেশি অর্থ আদায় করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোবিন্দগঞ্জ চারমাথা বাসস্ট্যান্ড বা সড়কের পাশে মানুষের প্রচন্ড ভিড় এবং গাদাগাদি করে পথচারীরা চলাচল করছে। কেউ মাথায় বিভিন্ন মালামালের বস্তা নিয়ে আবার কেউ স্ত্রী-সন্তানদের অনেক কষ্টে প্রতিটি টিকিট কাউন্টারে ছোটাছুটি করেছে একটি বা দুটি টিকিটের আশায়। সেই সঙ্গে বাসের বাড়তি ভাড়ার চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। একইসঙ্গে বাসের টিকিট পাওয়া, আর ভিড় ঠেলে টিকে থাকার লড়াই যেন নিত্যদিনের চিত্র।
প্রখর রোদ আর গরমে দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা যেকোনো মানুষের জন্যই কষ্টকর। সড়কের পাশে বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে, আর যাত্রীরা সেই অসহ্য গরমে কোনো উপায় না পেয়ে রোদের মধ্যেই বাসের টিকিটের জন্য অপেক্ষা করছেন। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে দীর্ঘ যানজট এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে মানুষের ঈদ-পরবর্তী ফেরা হয়ে উঠেছে দুঃসহ। পথের এই দীর্ঘ বিলম্ব আর গরমের ক্লান্তি মানুষকে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
তালুককানুপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তার দেড় বছরে শিশুসন্তান, স্ত্রী, আর চাল-ডাল, তরিতরকারির বস্তা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত থানা চৌমাথা মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। দরদাম করেও ভালো বাসের টিকিট পাচ্ছেন না। এমনিতেই বাসের ভাড়া অনেক বেশি, তার ওপর চাল-তরিতরকারির বস্তা কোনো বাসেই নিতে চাচ্ছে না।
পারগয়ড়া গ্রামের মোশারফ তার স্ত্রী-সস্তান নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ক্ষোভে বলছেন, বাসে ১২শ টাকা ভাড়া চাচ্ছে দুজনে ২৪শ টাকা। এত ভাড়া বেশি দিয়ে যাই কেমনে। এরপরও লক্কড় ঝক্কড় মার্কা বাস। গার্মেন্সে ছোট একটা চাকরি করি। বাড়িতে ঈদের খরচে টাকাপযসাও শেষ। কি করি এখন ভেবে পাচ্ছি না।
এই চরম ভোগান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সাধারণ মানুষ মনে করেন, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাব। ভাড়ার ক্ষেত্রে নৈরাজ্য বা সড়কের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের অভাব সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও পরিবহন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য না কমায় সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
"






































