চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

  ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

গাইদঘাট রেল ট্র্যাজেডির ৪৬ বছর আজ

আজ ২৬ জানুয়ারি। ১৯৭৯ সালের এ দিনে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনের অদূরে গাইদঘাট নামক স্থানে ঘটেছিল এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বহু ট্রেনযাত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আহতদের আর্তনাদে এলাকাটি হয়ে ওঠে প্রক¤িপত। এ দুর্ঘটনায় সরকারি হিসেবে ৮৬ যাত্রী নিহত হওয়ার কথা বললেও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি ছিল। আহত হয়েছিলেন অন্তত ৫শ জন। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় ট্রেন দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।

সেদিন দুপুর দেড়টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীগামী ২৩ আপ রকেট মেইল ট্রেনটি

চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে ৩ কিলোমিটার আগে গাইদঘাট নামক স্থানে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। বিকট শব্দে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ বগিগুলো খাদে ছিটকে পড়ে। ট্রেনের বগিগুলো একটার ওপর একটা উঠে পড়ে। বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুমড়ে মুচড়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। আহত নিহত স্বজনদের আর্তচিৎকারে ওই এলাকায় সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। ঘটনার পরপরই তৎকালীন বিডিআর-পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ আহত ও নিহতদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এসময় হেলিকপ্টার যোগে আহতদের মধ্যে অনেককে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আহতদের সংখ্যা এতই বেশী ছিল যে হাসপাতালে তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না।

জেলা প্রশাসন নিহতদের তালিকা সংবলিত স্মৃতি ফলক স্থাপন করে। যেটা অযত্নে অবহেলায় আজ

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ভয়ঙ্করতম মর্মানিাতক দুর্ঘটনার ৪৬ বছর পর গতকাল রবিবার দুর্ঘটনাস্থল গাইদঘাট কোরের মাঠ নামক স্থানটি সরেজমিনে দেখা যায় বর্তমানে ওই গাইদঘাট

রেলওয়ে স্টেশনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো ট্রেন থামে না আর ধীরগতিতেও অতিক্রম করে না। যদিও ওই স্থানের রেললাইনের ভয়ঙ্করতম বাঁকটি এখনো সেভাবেই রয়ে গেছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়