শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ৪ ঘণ্টা আগে

সিরাজগঞ্জ

শহরে অচল সিসিটিভি ক্যামেরা, বাড়ছে অপরাধ

যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি ব্যস্ততম বাণিজ্যিক শহর সিরাজগঞ্জ। জেলা সদরে প্রতিদিনই নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকা থেকে শহরে আসে শত শত মানুষ। পাশাপাশি শহরেও বসবাস করে ২ লক্ষাধিক মানুষ। তাই নিত্যদিনই ঘটে চলেছে ছোটখাটো অপরাধ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তের জন্য পুরো সিরাজগঞ্জ শহরকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনা হলেও নিয়মিত তদারকি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন হলো বিকল হয়ে পড়ে আছে সব ক্যামেরা। নিরাপত্তার স্বার্থে লাগানো এসব ক্যামেরা পৌরবাসী ও ব্যবসায়ীর কোনো কাজে আসছে না। যার কারণে সিরাজগঞ্জ শহরে বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা। ঘটছে মারামারি, চুরি, ছিনতাই, যৌন হয়রানিসহ নানা ঘটনা। ফলে পুরো শহরকে আবারো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের। পুলিশ বলছে সিসি ক্যামেরা পুনঃস্থাপনে কাজ করছে জেলা পুলিশ।

শহরে বসবাসরত সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তের জন্য ২০২১ সালে পুরো শহরকে উচ্চ রেজুলেশন সম্পূর্ণ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনে জেলা পুলিশ। শহরের ৬৫টি পয়েন্টে ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়; যা পর্যবেক্ষণ করা হতো পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মনিটরিং সেল থেকে। তবে ক্যামেরা স্থাপনের ৩ থেকে ৪ বছরেই বিকল ও খোয়া গেছে প্রায় সব ক্যামেরাই। শহরবাসী বলছে, ক্যামেরা সচল না থাকায় সেই সুযোগ নিচ্ছে অপরাধ চক্র। পুনরায় ক্যামেরার আওতায় আনা হোক এই শহরকে।

সিরাজগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ী আসলাম উদ্দিন বলেন, কয়েক মাস পূর্বে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক কিশোরকে। প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির পাশপাশি পাড়া-মহল্লায়, বসতবাড়িতে ঘটছে ছোট-বড় চুরি, ছিনতাইসহ নানা ঘটনা, বলছেন শহরের তরুণরা। ব্যক্তিগত সিসি ক্যামেরায় কিছু অপরাধ শনাক্ত হলেও অধিকাংশ অপরাধীই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করলে সর্বস্তরের মানুষসহ ব্যবসায়ীরা নিরাপধে তাদের নিজ নিজ কাজ করে যেতে পারবে। ক্যামেরা স্থাপনে প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, অপরাধপ্রবণতা শহরে আগের চেয়ে অনেকটাই কমেছে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ছোট ছোট অনেক অপরাধ রোধ করা যায়। ফলে জেলা পুলিশ আবারও সিসিটিভি ক্যামেরা পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ করছে বলেও জানান তিনি ।

পূর্বের ন্যায় পুরো সিরাজগঞ্জ শহর আবারো ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আসবে এমনটাই আশা করেন শহরবাসী।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়