রেজওয়ান শরিফ টাঙ্গাইল ও আকবর হোসেন মধুপুর

  ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০

মধুপুর গড়

উন্নয়নবঞ্চিত হাজারো মানুষ

মধুপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড় ও বন অধ্যুষিত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত। প্রায় পাঁচ বছর আগে শোলাকুঁড়ি থেকে টেলকি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের দুই কিলোমিটার অংশ পাকা করার উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। এক কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করতে পারলেও সড়কটি নিজেদের দাবি করে আপত্তি তুলে মামলা দেয় বন বিভাগ। এতেই আটকে যায় সড়কের নির্মাণকাজ।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গহীন অরণ্যের ভেতরে বসবাস করা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালির বেঁচে থাকার সম্মিলিত প্রয়াস। যুগ যুগ ধরে বন আর পাহাড়কে ঘিরেই তাদের জীবন-জীবিকা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল, সখীপুর ও মির্জাপুরের অংশ বিশেষ নিয়ে মধুপুর গড় অবস্থিত। অবহেলিত এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক।

------
মধুপুর উপজেলার শোলাকুঁড়ি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক হচ্ছে শোলাকুঁড়ি-টেলকি সড়ক। এই সড়ক ব্যবহার করেই গড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষ সহজেই ময়মনসিংহ ও জামালপুরের বিভিন্ন এলাকা এবং মধুপুর হয়ে টাঙ্গাইল ও ঢাকায় যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও সড়কটি পাকা না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না।

অপরদিকে এ এলাকার কলা, আনারস, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল ও শাকসবজি পরিবহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অথচ মাত্র ১০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন হলেই এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পায় এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ।

মধুপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, পাহাড়ি এই জনপদের উন্নয়নে এলজিইডি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শোলাকুঁড়ি-টেলকি সড়কটি পাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ কিলোমিটার সড়কটির মধ্যে শোলাকুঁড়ি থেকে বেদুরিয়া পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রায় ৫২ লাখ টাকায় কার্যাদেশ পায় মেসার্স উচ্ছ্বল কনস্ট্রাকশন। কিন্তু কাজ শুরুর পর বন বিভাগ সড়কটি তাদের দাবি করে মামলা করে। এতে এক কিলোমিটার অংশ পাকা হলেও সড়কের বাকি অংশ শেষ করতে পারেনি এলজিইডি। এরই মধ্যে পাকা করা অংশও ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কাঁকড়াগুনি এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটির বেহালদশার কারণে আমার কারখানায় কাঁচামাল আনতে এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারে পাঠাতে খুবই ঝামেলা পোহাতে হয়। বর্ষা মওসুমে এই কষ্ট আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পরিবহন খরচ পড়ে অনেক বেশি। সড়কটি দ্রুত সংস্কার এবং সড়কের অবশিষ্টাংশ পাকাকরণের দাবি জানান তিনি।

বেদুরিয়া এলাকার ত্রিপল এবং গিলাগাইশা এলাকার আবু হানিফ বলেন, সড়কটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অথচ আমাদের এ সমস্যা দেখার কেউ নেই।

হরিণধরা এলাকার গেদা এবং অরণখোলা এলাকার হেলাল বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে মালপত্র আনা-নেওয়া করি, কিন্তু রাস্তাটি ভাঙাচোরা থাকার কারণে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যায়। এতে অনেক সময় আমাদের জানমাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম আজম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও বাকি অংশ পাকা করা অতীব প্রয়োজন; কিন্তু মামলা থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। বন বিভাগ মামলাটি তুলে নিয়ে অনাপত্তিপত্র দিলে সড়কটির দ্রুত উন্নয়ন করা সম্ভব।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, যেহেতু সড়কটি বন বিভাগের। তাই এ সড়কের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল বন বিভাগের। সড়কটি নিয়ে বর্তমানে একটি মামলা চলমান থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে জনস্বার্থে সড়কটি উন্নয়নের জন্য অবমুক্ত হতে পারে।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়