নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২২ ঘণ্টা আগে

ইউপি চেয়ারম্যানের গাড়ি বিক্রির ফাঁদ

তিনশ গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ

১০ বছর আগে ঢাকায় গাড়ি চালাতেন জাকির হোসেন। পরে কৌশলে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন নিয়ে হয়ে যান কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মাইনকারচরের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান। এজন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়েছেন একটি প্রাডো গাড়ি।

এরই মধ্যে শতাধিক গাড়ি নিয়ে শুরু করেন রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা। পরে রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা ও সুলভমূল্যে গাড়ি কেনাবেচার নামে গড়ে তোলেন ভয়ংকর প্রতারণার কারবার। এভাবে তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে এক হাজারের অধিক টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। এসব অভিযোগে ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানা এলাকা থেকে জাকির হোসনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জাকির রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা ও স্বল্পমূল্যে গাড়ি কিনে বেশি মুনাফা লাভের ফাঁদে ফেলে তিন শতাধিক মানুষের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার এমন প্রতারণার ফাঁদে সাধারণ মানুষ ছাড়াও সংসদ সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এমনকি পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তবে প্রভাবশালীদের টাকা ফেরত দিলেও শত শত সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেন জাকির।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রেন্ট-এ-কারের ব্যবসার আড়ালে ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। দুই-তিন প্রক্রিয়ায় প্রতারণা করে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

‘জাকিরের প্রতারণার মধ্যে অন্যতম হলো স্বল্পমূল্যে গাড়ির ব্যবসার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। রেন্ট-এ-কারে মাসিক ৬০-৭০ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়ার কথা বলে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কারও টাকা কারও গাড়ি হাতিয়ে নেন তিনি।’

হারুন অর রশীদ বলেন, গত কয়েকদিনে ডিবি কার্যালয়ে দুই শতাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। এতে দেখা যায়, শুধু মুন্সিগঞ্জের একটি গ্রাম থেকেই দেড় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জাকির।

তিনি আরও বলেন, জাকিরের গাড়ি ২০-২৫টি। সেসব গাড়িই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবাইকে দেখাতেন। জাকির কয়েকজন এমপি ও প্রশাসনের লোকদের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন। তবে তাদের কাছে নিজের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে মাসিক কিস্তির টাকা ঠিক মতো পরিশোধ করলেও অন্যদের সঙ্গে করেছেন ভংয়কর জালিয়াতি।

হারুন অর রশীদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির স্বীকার করেছেন, প্রতারণার টাকায় তিনি তার গ্রামে আলিশান বাড়ি বানিয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে একজনকে প্রাডো গাড়ি দিয়েছেন। নির্বাচনে বিপুল টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান হয়েছেন। ঢাকায় করেছেন ফ্ল্যাট-প্লট ও গাড়ি। এছাড়া তিনি ছেলেকে আমেরিকায় পাঠিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে তারও আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তার আগেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি বলেন, তাকে রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আর না হয় তার সম্পদ জব্দের জন্য প্রয়োজনে সিআইডিতে মামলা হস্তান্তর করা হবে।

জাকিরের প্রতারণার সম্পর্কে ডিবি প্রধান বলেন, জাকির চেয়ারম্যান পোর্ট থেকে স্বল্প দামে গাড়ি কিনে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। ক্রয় করা গাড়ি রেন্ট-এ -কারের মাধ্যমে মাসিক ভাড়ায় পরিচালনা করতে একই গাড়ি দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে চুক্তি করতেন। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর সম্বলিত গাড়ি একাধিক জাল দলিলের মাধ্যমে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করতেন। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে শুধু ইঞ্জিন নম্বর দিয়েই মাসিক কিস্তি পরিশোধের ভিত্তিতে চুক্তি করতেন। কিছুদিন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করার পর কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দিতেন জাকির। এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close