ক্রীড়া ডেস্ক

  ০৪ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে এক কিংবদন্তির বিদায়

দুই তারকা একসঙ্গে নামল বিদায়ের মঞ্চে, যেখানে একজনের জন্য সাজানো ছিল বিদায়ের আয়োজন। যার শেষ হলো নাটকীয়ভাবে। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোল বাতিল হওয়ায় লুকা মদরিচের বিশ্বকাপ শেষ হলো নাটকীয় ও আবেগঘন। আর অন্তত আরেকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেন আরেক তারকা ও পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থকে নিয়ে সিআরসেভেন বলেন, ‘আমি লুকার সঙ্গে অনেক বছর খেলেছি। ও ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি, এখনো। আমি তাকে বহুবার এ কথা বলেছি। সবকিছুর জন্য তোমাকে অভিনন্দন। তোমার ক্যারিয়ারের আগামী বছরগুলোর জন্য আমার অনেক অনেক শুভকামনা রইল।’ ম্যাচ শেষ হতেই সৌজন্যতা বিনিময়ের সময় মদরিচকে জড়িয়ে ধরেন রোনালদো। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। শেষ করেন আবার দুজন দুজনকে আলিঙ্গন করেন। হেরে যাওয়া ম্যাচে ৪০ বছর বয়সেও নিজের জাত চেনালেন মদরিচ। ৬৬ বার বলে পা ছুঁয়েছেন, তিনটি ট্যাকেল সম্পন্ন করেছেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের অর্ধে দুটি বিপজ্জনক ক্রস দিয়েছেন। জোসকো জিভারদিওলের গোল বাতিল হওয়ার পর ম্যাচ শেষের বাঁশি যখন বাজল, বিমর্ষ মদরিচ হাঁটুতে হাত দিয়ে ঝুঁকলেন। হতাশার সমাপ্তির পর আবেগ লুকাতে পারেননি।

তবে এটাই কি শেষ? ক্রোয়েশিয়া কোচ জøাতকো দালিচ আশা রাখলেন। তার মতে, ‘হয়তো’ এটাই মদরিচের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তিনি যোগ করলেন, ‘শুধু ঈশ্বর জানেন, পরের চার বছর কী হবে। দেখা যাক, আমরা ক্রোয়েশিয়ায় গিয়ে এনিয়ে কথা বলব।’ মদরিচের প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘লুকা খুব ভালো খেলেছিল। আবারও সে ছিল আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমি খুব দুঃখিত যে তার শেষটা এভাবে হলো। সে আবারও তার দৃঢ়তা ও সামর্থ্য দেখাল। শেষ পর্যন্ত সে ক্রোয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’ মদরিচের নেতৃত্বে ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া রানার্সআপ ও তৃতীয় হয়েছিল। এটি ছিল তার পঞ্চম বিশ্বকাপ। চলতি আসরে চার ম্যাচের সবগুলোয় শুরু থেকে ছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলে ব্যালন ডি’অর জেতেন মদরিচ। মাদ্রিদে তিনি ছয়টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা জেতেন। রিয়ালসহ ক্লাব ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ২৩ মৌসুম খেলেছেন তিনি ডায়নামো জাগবের ও টটেনহাম হটস্পারে। গত মৌসুমে ছিলেন এসি মিলানে। মদরিচ শেষ বিশ্বকাপ খেলার পর প্রতিপক্ষ কোচের প্রশংসাও পেলেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বলেন, ‘আপনি এমন একজন খেলোয়াড়ের কথা বলছেন, যে লম্বা ক্যারিয়ার পার করেছে এবং এখনো চিন্তা করার ক্ষমতা সম্পন্ন একজন তরুণের মতো খেলে।’ তিনি আরো বলেন, ‘খেলার চিন্তাভাবনার দিকটা নিয়ে খুব কমই কথা বলা হয়। সবকিছুই কৌশল, কারিগরি দিক আর শারীরিক দিককে কেন্দ্র করে কথা হয়। এমন খেলোয়াড়ের কথা খুব কমই বলা হয়, যে বল পায়ে রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমার মনে হয়, মদরিচ এর একটি চমৎকার উদাহরণ। খেলার গতি-প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে সে নিজের ছন্দ খুঁজে নেয় এবং সঠিক সিদ্ধান্তটি নেয়।’

বন্ধু মদরিচকে জড়িয়ে যা বলেছিলেন রোনালদো : টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে তখন শেষ বাঁশি বেজে গেছে। ভিএআরের সিদ্ধান্তে শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোল বাতিল হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ। বিশ্বকাপের মঞ্চে সম্ভাব্য শেষ ম্যাচের এমন নির্মম বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না ৪০ বছর বয়সি এ কিংবদন্তি। সেই সময়ই নিজের দলের উদযাপন ছেড়ে পুরোনো বন্ধুর দিকে এগিয়ে যান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দীর্ঘদিনের সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় পর্তুগিজ অধিনায়ককে। সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফুটবলপ্রেমীদের মনে তখন একটাই প্রশ্ন, মদরিচকে তখন কী বলেছিলেন রোনালদো?

শেষ পর্যন্ত সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। রোনালদো জানান, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই সোনালি দিনের সঙ্গীকে সান্ত্বনা দিতেই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ছয় বছর একসঙ্গে খেলেছেন রোনালদো ও মদরিচ। এ সময়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাসসহ লা লিগা ও কোপা দেল রের একাধিক ট্রফি জিতেছেন তারা। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল জুটির একজন ছিলেন এ দুই তারকা। কিন্তু টরন্টোর রাতে বিশ্বকাপের নির্মম বাস্তবতায় দুজনের পথ আলাদা হয়ে গেল। একজনের স্বপ্ন বেঁচে রইল, অন্যজনের শেষ হলো চোখের জলে। যদিও খেলা চালিয়ে যাওয়া বা অবসর প্রসঙ্গে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানাননি মদরিচ। পর্তুগালের কাছে হারের ক্রোয়েশিয়া কোচ দালিচ অবশ্য বলেন, ‘হয়তো’ এটিই শেষ বিশ্বকাপ মদরিচের। তবে চূড়ান্ত কিছু বলেননি তিনিও, ‘শুধু ঈশ্বরই জানেন, পরের চার বছরে কী হবে। দেখব আমরা। ক্রোয়েশিয়ায় ফিরে আমরা কথা বলব এটা নিয়ে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়